About Us
MD Emran
প্রকাশ ৩১/০৮/২০২০ ১০:১৮পি এম

প্রণবের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রণবের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক Ad Banner

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি, উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনীতিক, প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ অভিহিত করে প্রণবের সঙ্গে নিজের ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বহু স্মৃতি স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।  সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেসউইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। এদিন দিল্লির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। 


প্রণব মুখার্জির মৃত্যুর সংবাদে শোকাহত ও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখার্জির অনন্য অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সবসময় মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।  প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত থাকাকালীন প্রণব মুখার্জি আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়ে তিনি আমার পরিবারের খোঁজখবর রেখেছেন, যেকোনো প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।


দেশের ফেরার পরও প্রণব মুখার্জির সহযোগিতা এবং উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ও পারিবারিক বন্ধু। যেকোনো সংকটে তিনি সাহস জুগিয়েছেন।  শেখ হাসিনা বলেন, প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারত হারালো একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে। আর বাংলাদেশ হারালো একজন আপনজনকে। তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন।  প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। 


গত ৯ আগস্ট পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। এরপর স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিলে ১০ আগস্ট তাকে দিল্লির আর্মি’স রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমআরআই স্ক্যানে তার মস্তিষ্কে জমাট বাধা রক্ত শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে কোভিড পরীক্ষাতেও পজিটিভও আসেন তিনি। সেদিন রাতেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমাট বাধা রক্ত বের করে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।  ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০১২ সালে দায়িত্ব নেন প্রণব। ২০১৭ সালে সে দায়িত্বের মেয়াদ পূর্ণ করেন তিনি। এরপর অবসর জীবন কাটাচ্ছিলেন।


এর আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, রাজস্ব ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের বিরল নজির রেখেছেন। বাঙালি এই রাজনীতিবিদ ভারতের ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস দলের অন্যতম ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ নেতা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। দলীয় সে পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রণব মুখার্জি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ