Md Mamunur Rashid - (Bogura)
প্রকাশ ২৪/০২/২০২২ ০১:২৪পি এম

বগুড়ায় চলছে গবেষণা: মাটি ছাড়াই শুরু হবে চারা উৎপাদন

বগুড়ায় চলছে গবেষণা: মাটি ছাড়াই শুরু হবে চারা উৎপাদন
ad image
মাটি ছাড়াই গাছের চারা উৎপাদন! নেই ক্ষতিকারক ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণ। গাছের শিকড়ও হয় শক্তিশালী। পচন ধরার আশঙ্কাও নেই। চারা মৃত্যুর হারও অনেক কম। সম্প্রতি মাটি ছাড়া জমিতে সবজি ও মসলা জাতীয় চারা উৎপাদন করতে এমন পদ্ধতি বা মিডিয়া (মাধ্যম) উদ্ভাবন করেছেন কৃষি গবেষকরা। এই মাধ্যমের নাম কোকোপিট। যা একটি জৈব উপাদান।

বীজতলা তৈরি, হাইড্রোপনিক্স চাষাবাদ (প্রয়োজনীয় উপাদান পানিতে যোগ করে ফসল উৎপাদন) ও বাড়ির ছাদবাগানে মাটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃর করা যাবে কোকোপিট। বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত মসলা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকরা গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে কোকোপিট নিয়ে কাজ শুরু করেন। কোকোপিট এখনো গবেষণা পর্যায়েই আছে। তবে খুব শিগগিরই কৃষক পর্যায়ে কোকোপিট মাধ্যম ব্যবহার শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কৃষি গবেষকরা।

গবেষকরা বলছেন, কোকোপিট মাধ্যমে চারা উৎপাদনের হার মাটির তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি। এছাড়াও এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধী উপাদান থাকে। কোকোপিট হালকা এবং ঝুরঝুরে হয়। ফলে এটি খুব সহজেই উদ্ভিদের জন্য খাদ্য তৈরিতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।
কোকোপিট কোকোপিট একটি জৈব উপাদান। শুকনো নারকেলের আঁশ কোকোপিটের মূল উপাদান। আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ইলেকট্রিক চাপ প্রয়োগে বিভিন্ন সাইজ ও ওজনের ব্লক বা পিট আকারে তৈরি করা হয় ককোপিট। কোকোপিট ব্যবহার করার আগে ব্লক বা পিট পানি দিয়ে আলগা ও পরে ঝুরঝুরে করতে হয়। তবে কোকোপিট ব্লক আকারে না থাকলে তাহলে পানি দিয়ে এটি আলগা করার প্রয়োজন হয়না।

কোকোপিট ব্যবহারে সুবিধা কোকোপিটে খুব সহজেই যেকোনো সবজি বা মসলা জাতীয় চারা উৎপাদন করা যায়। শীতের শুরুতে পেঁয়াজের চারা কোকোপিট মাধ্যমে উৎপাদন করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এই মাধ্যমে চারা উৎপাদনে বেশি শ্রম দিতে হয় না। দুই-একজনই এটির পরিচর্যা করতে পারবেন। কোকোপিটে নিয়মিত পরিচর্যা করারও প্রয়োজন নেই। এই মাধ্যমে প্রাকৃতিক মিনারেল থাকে। যা উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি এবং উপকারী অণুজীব সক্রিয় করার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে।

কোকোপিটে দ্রুত পানি ও বাতাস চলাচল করায় গাছের শিকড় দ্রুত বাড়ে। ফলে গাছও দ্রুত বাড়ে এবং স্বাস্থ্যবান হয়। এখানে ক্ষতিকারক ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। এমনকি চারা উৎপাদনে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। ফলে কেকোপিট ব্যবহার করে রাসায়নিক মুক্ত সবজি উৎপাদন করা সম্ভব।

কোকোপিট বেশি পরিমাণ জলীয় অংশ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জৈব উপাদান। ফলে এতে নিয়মিত পানি দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাড়ির ছাদে বাগান করার জন্য মাটির বিকল্প হিসেবে কোকোপিট ব্যবহার করা যাবে। এতে অনেক সুবিধা আছে। কারণ মাটির ওজন অনেক বেশি অন্যদিকে কোকোপিট একদমই হালকা। মাটির বিকল্প হিসেবে রেডি সয়েল তৈরিতেও অন্যান্য জৈব উপাদানের সঙ্গে কোকোপিট মিশ্রণ করা হয়।

কোকোপিটে চারা উৎপাদন করতে ট্রে ব্যবহার করা হয়। একটি ট্রে ব্যবহার করেই ৪-৫ বার চারা উৎপাদন করা সম্ভব। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষক। কোকোপিট নিয়ে কাজ করছেন বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সুজা। কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি জানান, মাটি থেকে যখন কোনো চারা উঠানো হয়; তখন শিকড় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে সবজি ও মসলার জাতীয় গাছের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং চারা মৃত্যুর হার বেশি থাকে। কোকোপিট খুব হালকা হওয়ায় এতে চারার শিকড় নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

মো. মাহমুদুল হাসান সুজা আরো জানান, ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান কোকোপিটে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে এখানে ইউরিয়া স্প্রে করে নাইট্রোজেনের চাহিদা মেটানো হয়। কোকোপিটে ঘাসও কম হয়। খুব সহজে যেকোন সবজি বা মসলা চারা কোকোপিটে তৈরি করা হয়। এতে চারা মৃত্যুর হার কম এবং কোকোপিটে তৈরি করা চারা মাটিতে রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তিনি আশা করছেন খুব দ্রুত কৃষক পর্যায়ে কোকোপিটের ব্যবহার শুরু হবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ