Sajib Rajbhar
প্রকাশ ২৭/০১/২০২২ ১১:১৭এ এম

Mithamin Haor: পর্যটন স্থান ইটনা মিঠামইন হাওরের জীববৈচিত্র্যের ভবিষৎ

Mithamin Haor: পর্যটন স্থান ইটনা মিঠামইন হাওরের জীববৈচিত্র্যের ভবিষৎ
ad image
সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা,হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নিম্নাঞ্চল নিয়ে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ প্লাবনভুমি এই হাওর।

একসময় দুর্গম এ হাওর ছিলো জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়।স্বাদু পানির বাহারি রকমের মাছের প্রজননক্ষেত্র ও অভয়াশ্রম ছিলো এ হাওরের নদীনালা খালবিল। বাহারী রকমের পাখপাখালির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙতো হাওরের মানুষের। শীতের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসতো লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির ঝাঁক।

দেশীয় পাখি বসতো হাওরের খাল বিল নদী নালার পাড়ে।বক,সারস,কাইম,শংকচিল,গাংচিল, ডাহুক,শকুন,ঈগল, কাকতাড়ুয়া, কি না ছিলো হাওরে! এই হাওরের স্বাদু পানির মাছ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত।আজ তা কেবলই অতীত হতে চলেছে। বিলুপ্তির পথে এসব প্রাকৃতির আশীর্বাদ প্রাণিজ উদ্ভিদ সম্পদ।

মাছ এবং পাখি শূন্য হতে চলেছে হাওরাঞ্চল। একে অন্যের জন্য জীবন ধারণে সহায়ক,মাছ ও পাখি জলবায়ু পরিবর্তন ও মনুষ্য সৃষ্টি নানা প্রতিবন্ধকতায় আর তেমন দেখা যায়না হাওরে। একসময়ের আশীর্বাদ এই হাওর জীববৈচিত্র্যের জন্য এখন মরণ অভিশাপ হয়ে দাড়াচ্ছে।হাওরের বনজঙ্গল ও জলজ উদ্ভিদ উজার হওয়ার কারণে ও অবৈধভাবে পাখি শিকার,খাদ্যের অভাব, হাওরাঞ্চলের কৃষি জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাছ, কীটপতঙ্গ, পাখপাখালির প্রজননের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়ংকর ভাবে পড়েছে।

হাওরের কৃষি জমিগুলো বছরের ৬ মাস থাকে পানির নিচে, কৃষি মৌসুমে এই জমিগুলোতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ও সার প্রয়োগের প্রভাবে মাছের প্রজননক্ষেত্রে এর বিক্রিয়া ঘটে মাছের রেনু নষ্ট হয়ে যায়,তার উপর বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল,চায়না চাই,উন্মুক্ত নদীতে পানির প্রবাহে ইজারার নামে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবশালী মহলের বাধার সৃষ্টি, ডিজেল, পুড়া লুব অয়েল, প্লাস্টিকের বর্জ হাওরের নদী নালা জলাশয়ের যত্রতত্র নিক্ষেপ,অবৈধ ড্রেজিং মেশিনে নদী থেকে অপরিকল্পিত মাটি বালুর উত্তোলন, মাছের প্রজননের সময় মৎস্য আইন মেনে না চলা ও এর প্রয়োগ না থাকায়, অতি উচ্চমাত্রার শব্দের কারনে পানিতে ক্ষতিকর অদৃশ্য রেডিয়েশন ও তরঙ্গের সৃষ্টি। প্রাথমিক ভাবে অবশ্যই এগুলো দায়ী।এবং জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হওয়ার আরো কিছু শুষ্ক কারন রয়েছে যা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দ্বারা চিন্তিত করার দাবি রাখে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা কোন সংস্থার কার্যকরী পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না একেবারেই। এই বৈরী অবস্থা থেকে যদি হাওরের প্রকৃতিকে বাঁচানো না যায়, চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে হাওরের জীববৈচিত্র্য আর এর পথ ধরে মানুষও হারাবে তাদের জীবন-জীবিকা।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ