MD Nomsher Alam - (Sherpur)
প্রকাশ ১৭/০১/২০২২ ০৩:৫৮পি এম

Slaughterhouse: শেরপুরে বধ্যভূমি সংরক্ষণে নির্মাণ কাজের সময় মাথার খুলি ও কঙ্কাল উদ্ধার

Slaughterhouse: শেরপুরে বধ্যভূমি সংরক্ষণে নির্মাণ কাজের সময় মাথার খুলি ও কঙ্কাল উদ্ধার
ad image
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার আহম্মদনগর বধ্যভূমি সংরক্ষণ কাজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের খনন কাজের সময় ৪টি মাথার খুলি ও কিছু কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। রবিবার বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ কাজে ঠিকাদেরের নিয়োজিত শ্রমিকরা মাটি খোঁড়ার সময় এসব খুলি ও কঙ্কাল উদ্ধার হয়। ওইসব কঙ্কালগুলো সংরক্ষণের জন্য গণপূর্ত বিভাগের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১১ নং সেক্টরের বিপরীতে ঝিনাইগাতী উপজেলার আহম্মদনগরে পাক-হানাদার বাহিনীর গড়ে তুলে তাদের সেক্টর হেড কোর্য়াটার। পাক আর্মিরা রাজাকার, আল বদরদের যোগসাজসে ওই ঘাঁটিতে টর্চার সেলে চালাত ধর্ষণ, নির্যাতন। সেসময় ওই ক্যাম্পে বহু মানুষকে ধরে এনে তাঁদের হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওই বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছর পর উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন। সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে ৭৫ লক্ষ টাকায় বাউন্ডারি ওয়াল এবং স্মৃতিফলক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

রবিবার রাজমিস্ত্রি লিটন মিয়া কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে বধ্যভূমির বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ করছিলেন। এসময় মাটির নিচ থেকে ৪টি মাথার খুলি সহ বেশ কিছু কঙ্কাল উঠে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায়। পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলের দাবির মুখে উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি এবং কঙ্কালগুলো গণপূর্ত বিভাগ সংরক্ষণের জন্য নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুর অঞ্চলে পাকহানাদার বাহিনীর অন্যতম টর্চারসেল ছিল আহম্মদনগরে। সেসময় বহু মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সহায়তাকারীদের ধরে এনে নির্যাতন ও হত্যা করে সেখানে গণকবর দেয়া হতো। তাঁর ধারণা বেড়িয়ে আসা কঙ্কালগুলো সেই সকল শহীদদের‌ই। তিনি কঙ্কালগুলো গজনী অবকাশে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অথবা বধ্যভূমির প্রস্তাবিত গৃহে সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ রবিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, গণকবর সংরক্ষণে নির্মাণ কাজের সময় বের হ‌ওয়া কঙ্কালগুলো মুক্তিযুদ্ধকালে গণকবর দেওয়া মানুষের বলে ধারণা করা হচ্ছে। কঙ্কালগুলো আপাতত গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়েছে।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে এবং সেইসাথে স্থানীয়দের দাবির বিষয়টিও জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ