SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ১২/০১/২০২২ ০১:৩৬পি এম

Swami Vivekananda: স্বামী বিবেকানন্দ -এর ১৫৯ তম জন্মবার্ষিকী

Swami Vivekananda: স্বামী বিবেকানন্দ -এর ১৫৯ তম জন্মবার্ষিকী
ad image
নরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রিয়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। তার পূর্বাশ্রমের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।অনেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মমতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব বিবেকানন্দকে দিয়ে থাকেন। ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন।বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বক্তৃতাটি হল, "আমেরিকার ভাই ও বোনেরা ...,"১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় প্রদত্ত চিকাগো বক্তৃতা,যার মাধ্যমেই তিনি পাশ্চাত্য সমাজে প্রথম হিন্দুধর্ম প্রচার করেন। প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন,যিনি তাঁর চিন্তাধারা দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবনকে আলোকিত করেছিলেন।

ভারতে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনটি ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন মহান দার্শনিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক নেতা। আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী। ১৮৬৩ সালের এই দিনে কলকাতায় নরেন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল,যিনি ২৫ বছর বয়সে পার্থিব আসক্তি ত্যাগ করেছিলেন এবং সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। এরপর নরেন্দ্র নাথের নাম হয় বিবেকানন্দ।

বিবেকানন্দের মা ছিলেন একজন ধার্মিক মহিলা যিনি বিবেকানন্দের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। হিন্দুধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি তাঁর অনুরাগ এর প্রতীক। বিবেকানন্দ যখন রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাথে দেখা করেছিলেন, যিনি অল্প বয়সে ঈশ্বরের সন্ধানে গিয়েছিলেন, তিনি ঈশ্বরের জ্ঞান লাভ করেছিলেন। বিবেকানন্দ একজন বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক গুরু হয়ে ওঠেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম সংসদে তাকে ডাকা হয়েছিল,যেখানে তিনি একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে তাদের আদর্শ হিসাবে বিবেচনা করতে শুরু করে এবং আজও তাঁর ধারণাগুলি অনুসরণ করে। স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারাকে আত্মস্থ করে একজন সুখী ও সফল জীবন যাপন করতে পারে।

১৯০২ খ্রিষ্টাব্দের ০৪ জুলাই বিবেকানন্দ ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন,বেলুড় মঠের চ্যাপেলে তিন ঘণ্টা ধরে ধ্যান করেন। এরপর তিনি ছাত্রদের শুক্লা-যজুর্বেদ শেখান,যা একটি সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং যোগ দর্শন। পরে সহকর্মীদের সঙ্গে রামকৃষ্ণ মঠের বৈদিক কলেজে একটি পরিকল্পনার আলোচনা করেন। তিনি ভ্রাতা-শিষ্য স্বামী প্রেমানন্দের সঙ্গে হাঁটেন এবং তাকে রামকৃষ্ণ মঠের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও নির্দেশনা দেন। সন্ধ্যা ৭:০০ টায় বিবেকানন্দ তার ঘরে ফেরেন এবং তাকে বিরক্ত করতে নিষেধ করেন;এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৯:১০ মিনিটে ধ্যানরত অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর শিষ্যদের মতে,বিবেকানন্দের মহাসমাধি ঘটেছিল;আর চিকিৎসকের প্রতিবেদনে বলা হয় এটি হয়েছে তার মস্তিষ্কে একটি রক্তনালী ফেটে যাবার কারণে,কিন্তু তারা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ধার করতে পারেননি। তাঁর শিষ্যদের মতানুসারে ব্রহ্মরন্ধ্র-মস্তিষ্কের চূড়ার রন্ধ্র-অবশ্যই ফেটে থাকবে যখন তিনি মহাসমাধি অর্জন করেছিলেন। বিবেকানন্দ চল্লিশ বছর জীবৎকাল পূর্ণ করার আগেই তার ভাববাণী সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।তাঁকে বেলুড়ে গঙ্গা নদীর তীরে একটি চন্দন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চিতার উপর দাহ করা হয়,যার বিপরীত পাশে ষোল বছর আগে রামকৃষ্ণ দেবের মরদেহ দাহ করা হয়েছিল।

স্বামী বিবেকানন্দের ভ্রমণসমূহ, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতাদান, ব্যক্তিগত আলোচনা এবং চিঠিপত্রের আদান-প্রদান তার স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি হাঁপানি, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য শারীরিক অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর দেহত্যাগের কিছুদিন পূর্বে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ষপঞ্জি/পঞ্জিকা পড়তে দেখা যেত। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার তিন দিন পূর্বে তাঁকে দাহ করার স্থান দেখিয়ে দেন - যে স্থানে বর্তমানে তাঁর স্মৃতিতে একটি মন্দির দাঁড়িয়ে আছে। তিনি কতিপয় লোকের কাছে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচবেন না।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ