Kajol Shuvro Das - (Rajshahi)
প্রকাশ ২০/০৯/২০২১ ১২:২০পি এম

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চেয়ে বাইডেনের অনুরোধ

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চেয়ে বাইডেনের অনুরোধ
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ‘অকাস প্যাক্ট’ নামে যে নয়া নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সঙ্গে কথা বলতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এরই মধ্যে কথোপকথনের আগ্রহ প্রকাশ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন বাইডেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন।

ফরাসি সরকারের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল আত্তাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ম্যাকরনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন এবং শিগগিরই তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হবে।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি বাতিলের বিষয়ে ‘ব্যাখ্যা’ চায় ফ্রান্স।

অস্ট্রেলিয়া গত সপ্তাহে ১২টি প্রচলিত ডিজেল-বৈদ্যুতিক সাবমেরিন তৈরির জন্য ফরাসি মালিকানাধীন নৌবাহিনী গ্রুপের সঙ্গে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের ২০১৬ সালের চুক্তি বাতিল করায় প্যারিস দুঃখ প্রকাশ করেছে। যদিও অস্ট্রেলিয়া বলেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে ওই চুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

ফরাসি মুখপাত্র বলেন, প্যারিস বাতিল চুক্তির ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনায় বসতে চায়।

তবে ফরাসি-অস্ট্রেলিয়ান চুক্তি ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের নিরাপত্তা জোট ঘোষণা। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন মিলিতভাবে অস্ট্রেলিয়াকে অন্তত আটটি পারমাণবিক সাবমেরিন করে দেবে।

এতে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরা থেকে দূতদের ডেকে পাঠায় ক্ষুব্ধ ফ্রান্স। তবে ব্রিটেনের দূতকে ডাকেনি।এ বিষয়ে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ফ্রান্স থেকে অর্ডার করা প্রচলিত সাবমেরিনগুলো কৌশলগত চাহিদা পূরণ করবে না বিধায় তার দেশ উদ্বিগ্ন ছিল।

তিনি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির সমাপ্তিকে দায়ী করেন। তবে চীনের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেননি, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মরিসন বলেন, তিনি আদেশটি বাতিলের ব্যাপারে ফ্রান্সের হতাশার কারণ অনুধাবন করেছেন, কিন্তু বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থ সবার আগে’।

এর আগে শনিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ ইভ লে ড্রিয়ান ফ্রান্স টু টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাতিল হওয়া চুক্তিটিকে ‘সংকট’ বলে অভিহিত করেন।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ পারমাণবিক প্রযুক্তির এই ধরনের অংশীদারত্বকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে নিন্দা করেছে চীন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্রান্সের নৌযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেভাল গ্রুপের কাছ থেকে নতুন সাবমেরিন তৈরি করে নেওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার। সেই সাবমেরিন প্রতিস্থাপিত হওয়ার কথা পুরোনো কলিন্স সাবমেরিনের জায়গায়।

গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন যখন ফ্রান্সে গিয়েছিলেন, তখনও দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরন দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কথা বলেছিলেন।

দুই সপ্তাহ আগেও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছিলেন- তারা ফ্রান্সের কাছ থেকেই এই সাবমেরিন তৈরি করে নেবেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। এতেই চরম ক্ষেপে যায় ফ্রান্স।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ