রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
Nazrul
প্রকাশ ১৯/০৯/২০২১ ০১:১৫পি এম

"ভালো আছি ভালো থেকো"

"ভালো আছি ভালো থেকো"
অকাল প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এই অমর কবিতাখানি গান হয়ে ফুটে উঠেছিল 'তোমাকে চাই', সিনেমায়। এই গানের গায়ক এন্ড্রু কিশোর,সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল পৃথিবী ছেড়ে গেছেন কিছুদিন আগে,তবে এই গান যখন শ্রোতাদের মুখে মুখে,সিনেমাটি যখন হাউজফুল যাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রেক্ষাগৃহে, তখন ই নেমে আসলো এক বিষাদময় ঘটনা।

সিনেমার গানের সেই নায়ক সত্যি সত্যি আকাশের ঠিকানায় পাড়ি জমালেন,যার আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা দেশে যেন শোকের ছায়া,যেই মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারেনি। মাত্র ২৫ বছরেই যেই নায়কের অকাল প্রয়াণ ঘটেছিল,আজ বেঁচে থাকলে বয়স হতো ৫০। দর্শকদের কাছে তিনি চিরঅমর,কাল পেরিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সেই প্রিয় নায়ক 'সালমান শাহ'।

জন্ম মুক্তিযুদ্ধের বছরেই,বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। কৈশোর থেকেই অভিনয়ে যুক্ত। বিটিভির নাটক,ইত্যাদি,আলমগীর কবিরের অসমাপ্ত ছবি হাঙর নদী গ্রেনেডের পর 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার নায়ক হয়ে আবির্ভূত হলেন বাংলা সিনেমার আকাশে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাৎ,এই দেশের দর্শকেরা যেন এমন নায়ক ই খুঁজেছিলেন।

প্রথম ছবির সাফল্যে তিনি তখন উজ্জ্বল নক্ষত্র,হাতে আসতে থাকে একের পর এক ছবি। তুমি আমার,অন্তরে অন্তরে থেকে এমনকি কালজয়ী ছবি 'সুজন সখি'র রঙীন সংস্করণেও সফল নায়ক তিনি। ছাত্র রাজনীতির ছবি বিক্ষোভে এলেন আবার ভিন্ন রুপে,সেখানেও সফল।

সালমান শাহ তখন শুধুমাত্র নায়ক হিসেবেই জনপ্রিয় নয়,তাঁর আধুনিকতা,ফ্যাশন সেন্স নিয়েও তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে। যার কারনে সেই প্রজন্মের তরুন- তরুনীর বিশাল অংশ হয়ে উঠলো গুণমুগ্ধ ভক্ত৷ যার কারনে এখনো সমকালীন তিনি। তারুণ্যের স্বপ্নের পৃথিবীতে তিনিই হয়ে উঠেন স্বপ্নের নায়ক।

শুধু যে রোমান্টিক সিনেমাতেই তিনি মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তা নয়,এই ঘর এই সংসারের মত সেরা পারিবারিক ছবি এমনকি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছিলেন কন্যাদান ছবিতে ত্রিশ পেরোনো বাবার চরিত্রে অভিনয় করে। মায়ের অধিকার ছবিতে মায়ের প্রাপ্য সম্মানের জন্য তার অভিনয় এখনো দর্শকদের চোখে উজ্জ্বল।

'স্বপ্নের ঠিকানা',ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র,শুধু তাই নয় ইন্ডাস্ট্রির সেরা দ্বিতীয় ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে এমন অর্জন সহজ কথা নয়। এটা ভাগ্য বিধাতা যেমন সহায়তা করেছেন,তেমনি ছিল নিজের পরিশ্রম, ভালোবাসা। আগে জুটি শুরু হলেও মূলত এই ছবির পরেই শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে উঠে তখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি৷

সালমান-শাবনূর জুটির জনপ্রিয়তা এখনো চিরসবুজ। তোমাকে চাই,বিচার হবে,স্বপ্নের পৃথিবী সিনেমায় তাদের পর্দা রসায়ন মুগ্ধ করতে বাধ্য,বেশিরভাগ ছবিই সুপারহিট। মৌসুমীর সঙ্গেও ছিল জনপ্রিয় জুটি। সিনেমায় জনপ্রিয় হলেও নাটক করতে দ্বিধা করেন নি। নয়ন তো বেশ জনপ্রিয়,ইতিকথা,স্বপ্নের পৃথিবী তো রইলো। একই নামে ছবি ও নাটক দুটোই করেছেন।

১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর এলো আকস্মিক বিষাদের খবর। রহস্যজনকভাবে মারা যান, খুন না আত্মহত্যা তা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরেই মুক্তি পেল 'সত্যের মৃত্যু নেই। সিনেমা হলে এই সিনেমা দেখে কাঁদেননি, এমন দর্শক পাওয়া দুষ্কর। এই যেন জীবনের সঙ্গেই মিলে গেল।

দর্শকরা এই ছবি দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন হলে,এই ছবিও রেকর্ডসংখ্যক ব্যবসা করেছিল। শুধু ব্যবসায়িক দিক থেকে নয়,সত্যের মৃত্যু নেই অভিনয়ের দিক থেকে এটা সেরা ছবি,জাতীয় পুরস্কার দেয়াই যেত এই ছবিতে। মৃত্যুর পর জীবন সংসার ছবিটাও সুপারহিট হল।

'আনন্দ অশ্রু',এক আক্ষেপের নাম। যেই ছবির জনপ্রিয়তা সময় অনুযায়ী আরো বেড়েছে। এই ছবিতে মানসিক রোগীর চরিত্রে অভিনয় যেন সেরা প্রাপ্তি। কিন্ত বিধিবাম পুরো শেষ করতে পারেন নি,এমনকি ডাবিং ও না। একের পর এক অসমাপ্ত ছবি মুক্তি পায়,আর হাহাকার বাড়ে।

'সালমান শাহ' যখন প্রয়াত হন তখন সে জনপ্রিয়তার শীর্ষে,হাতে ছিল প্রচুর ছবি। বাংলা ছবি ধীরে ধীরে ম্লান হয়েছে,আর তাকে নিয়ে আক্ষেপ বেড়েছে। তিনি থাকলে হয়তো এর চেয়েও ভালো থাকতো কিংবা হত না। যাই হউক সেটা উহ্যই থাকুক। অমর নায়ক চলচ্চিত্র আকাশের শুকতারা হয়ে থাকুক আজীবন।শুভ জন্মদিন.. সালমান শাহ।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ