রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
Ali imran - (Tangail)
প্রকাশ ১৮/০৯/২০২১ ০৮:৫০পি এম

"পাহাড়ে রহস্য"

"পাহাড়ে রহস্য"
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের ৩ পার্বত্য জেলা রাঙামাটি,বান্দরবান,খাগড়াছড়ি।কিন্তু এই সৌন্দের্যের মধ্যই লুকিয়ে আছে ভংকর সব ইতিহাস।পাহাড়ি ও বাঙালি সংঘর্ষ নতুন কিছু নয় এর রয়েছে বিস্তর ইতিহাস।যার শুরু ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জে এস এস) গঠনের মাধ্যমে।মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭২ সালেই তারা তাদের ৪ দফা দাবি পেশ করে।কিন্তু তাদের দাবি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা নাকচ করে দেয়া হয়। ফলে ১৯৭৩ সালে জে এস এস সশস্ত্র ভাবে সামনে আসে।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় যারা বান ভাসি,নদী ভাঙা মানুষ ছিল তাদের পার্বত্য অঞ্চলে বসতি নির্মাণ শুরু করে।আর এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ভাবে দেখেনি জে এস এস।তারা দাবি করে ছিল পাহাড়ে যেন বাঙালি বসতি স্থাপন করা না হয়।সরকারে পক্ষ থেকে তেমন কোন সাড়া না পাওয়ায় তারা আরো ক্ষিপ্ত ও ভংয়কর হয়ে ওঠে প্রতিবেশি দেশ ভারতের সহযোগীতায়।জে এস এস এর যে সশস্ত্র অংশ ছিল তাদের প্রশিক্ষন মূলত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে হতো,শুধু তাই নয় জে এস এস নেতা সন্তু লারমা তার জীবনের অনেকটাই কাটিয়েছে ভারতে আত্নগোপেনের মাধ্যমে।জে এস এস মূলত ভারতের আর্থিক সহযোগীতা এবং স্থানীয় জনগনের কাছে চাঁদাবাজির মাধ্যমে তাদের শক্তি জোড়ালো করার চেষ্টা করছিলো।

অতপর ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অফিসারে সাথে শান্তি বাহিনীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে শান্তি বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয় তার মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য একটি পাহাড় থেকে সব বাঙালি প্রত্যাহার করতে হবে আর দুই হলো পার্বত্য অঞ্চলকে প্রদেশ ঘোষনা করতে হবে যার রাজধানী হবে রাঙামাটি।
মানে হলো বাংলাদেশে দুটি প্রদেশ হবে একটি হবে ঢাকা এবং এর রাজধানীও ঢাকা আর আরেকটি প্রদেশ হবে পার্বত্য তিন জেলা মিলে যেখানে থাকবে শুধু পাহারি উপজাতিরা।আর প্রদেশের নাম হবে জুম্মুল্যান্ড।আর দুই প্রদেশেরই প্রধান রাজধানী হবে ঢাকা।

সে সময়ের সরকার তাদের এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয়।যার ফলে তারা আরো গেরিলা আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় যেন সরকারকে চাপে ফেলে তারা তাদের দাবি আদায় করতে পাড়ে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলেও শান্তি আলোচোনা ফলপ্রুসূ হয় নি।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হয় [পাহাড়ি শান্তি বাহিনীর সাথে।ধিরে ধিরে অস্ত্র জমা দিতে থাকে সব শান্তি বাহিনীর লোক।

কিন্তু শান্তি বাহিনী জে এস এস এর এই চুক্তি সঠিক ভাবে মেনে নিতে পারেনি পাহাড়ি তরুন কর্মীরা।ফলে প্রথম বারের মতো ভাঙন ধরে জে এস এস এ । ভেঙে গঠিত হয় নতুন দল ইউপিডিএফ।দীর্ঘ দিন ইউপিডিএফ এবং জে এস এস এর মধ্যে চলে আসছিলো কোন্দল যা বর্তমান সময়ে অনেক অংশেই কমেছে।

অবশ্য এখানে কমে আসার কারণও আছে কারণ এদের মধ্যেও হয়েছে আরো বিভাজন। জে এস এস ভেঙে আরো দুটি দল হইয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এবং জে এস এস (সংস্কারপন্থী)।আবার ইউপিডিএফ মূল ধারা ভেঙে হয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক)।

পাহাড়ে মূলত এখন এই চারটি দলে বিভাজিত।তাদের দাবি সরকারী বাহিনী তাদের এই বিভাজনের পিছনে মূলকারিগর হিসাবে কাজ করেছে।

তাদের এই চারটি দল ব্যতিতও আরাকান লিবারেশন পার্টি ( এএলপি) এবং মগ এরা মূল পার্বত্য অঞ্চলে তৎপরতা না চালালেও তারা ঘাটি রেখেছে বাংলাদেশ-মায়ানমার দুর্গম সীমান্ত এলাকায়।

পাহাড়ে এখন আর পাহাড়িদের অধিকার দাবি নিয়ে যে কথা না হয় ,তার থেকে বেশি কথা হয় পাহাড়ি দল গুলোর অভ্যান্তরিন কোন্দল ও স্বার্থ রক্ষায়।ফলে মাঝে মাঝেই তাদের অভ্যান্তরিন হত্যার কথা শোনা যায়।কিন্তু মাঝে মাঝেই বাঙালি হত্যার মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানান দেয়।
যার অন্যতম উদাহরণ ২০১৯ সালের দিঘিনালার ব্রাশফায়ার।

তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা চৌকশ বুদ্ধিমত্তার সাথে পাহাড়ি নামধারী সন্ত্রাসিদের মোকাবিলা করে আসছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ