ভারী বৃষ্টিপাতে উখিয়া-টেকনাফে হাজারো পরিবার পানিবন্দী | আই নিউজ বিডি

ভারী বৃষ্টিপাতে উখিয়া-টেকনাফে হাজারো পরিবার পানিবন্দী

Shahin Alam avatar   
Shahin Alam
ভারী বৃষ্টিপাতে উখিয়া-টেকনাফে হাজারো পরিবার পানিবন্দী
ভারী বৃষ্টিপাতে উখিয়া-টেকনাফে হাজারো পরিবার পানিবন্দী
ছবি: সংগৃহীত
টেকনাফ উপজেলা।

শাহিন আলম টেকনাফ //

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি-চিংড়িঘেরও। প্রাণহানি রোধে পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার রাত ১১ টা থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়া-টেকনাফের উপজেলায় পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হচ্ছে। এছাড়া ভারী বর্ষণে উখিয়ার ক্যাম্প-২ ইস্টে মাটির দেওয়াল ধসে রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আয়াস (২২) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এ সময় আরও দুজন রোহিঙ্গা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

এদিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার, ওয়াব্রাং, চৌধুরী পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের পতে আলী পাড়া, বাহারছাড়া পাড়া, কুড়া বুইজ্জ্যাপাড়া, মুন্ডার ডেইল পাড়া গ্রামের বসবাসকারী এক হাজার পরিবারের ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি টেকনাফ পৌরসভার ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০ হাজার মানুষ। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে এসব মানুষের নতুন করে প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে উখিয়ার হলিদিয়া পালং, রুমখাঁ , কোলাল পাড়া, চৌধুরী পাড়া ও বড়–য়া পাড়া, বালু খালীসহ বেশ কিছু এলাকায় ৫’শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে আছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের বেশ কিছু ঘরবাড়ি পাবিন্দি হয়ে পরেছে।   

 

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে ক্যাম্পে মাটি ধসে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বজ্রে পাতে পাচঁ রোহিঙ্গা আহত হওয়ার খবরও পেয়েছি। পাশাপাশি ক্যাম্পসহ স্থানীয়দের কিছু এলাকা পানি বন্দী হয়ে পরেছে। তবে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় পানিও নামতে শুরু করেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর খোঁজ খবর নিচ্ছি। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশি কিছু এলাকায় পানিববিন্দ রয়েছে। আশা করছি পানি নেমে যাবে।’  

 

উখিয়ার বড়–য়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন বড়–য়া বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আমাদের উখিয়া উপজেলার বেশীরভাগ গ্রাম। আমাদের বড়–য়া গ্রামের অবস্থা আরো করুণ। বিদ্যুৎ নাই, মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। যদি এভাবে বৃষ্টি হতে থাকে ঘরবাড়ি আরো ডুবে যাবে। এখন চিন্তিত ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এদের কোথায় নিয়ে রাখব।

 

উখিযার রুমখাঁ মনির মার্কেটে এলাকার বাসিন্দা আলী হোছাইন বলেন, গতকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে আমাদের এলাকার কুলাল পাড়া আর বড়–য়া পাড়া, বাজার পাড়া সহ অন্যান্য পাড়া তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে অত্র গ্রামে প্রায় ৩০০ ঘর বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া অন্য গ্রামের ৫০০-৬০০ পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়ছে। মানুষ খুবই দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। জোয়ারের পানি ঠেলা আসলে আরো ভয়ংকর হবে। অনেক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গেছে। যারা যায়নি তারা ঘরবন্দি আছে।’

 

ভারী বর্ষণের পারিবন্দি হয়ে পড়েছেন রঙ্গিখালী লামার পাড়ার বাসিন্দার নুর বেগম। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে পানি ঢুকেছে, ফলে ঘরের সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। সকাল থেকে শুধু চনামুড়ি খেয়ে দিন পার করছি। কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি। আমাদের আশপাশের ১০টি পরিবার রয়েছে। সবার ঘরবাড়ি ডুবে গেছে।’ 

 

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভারী বর্ষণে আমার এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের ৫’শ পরিবারের এক হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মূলত সীমান্ত সড়কের সুইচ গেইট থেকে বৃষ্টির পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে বের হতে না পারায় এসব এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। আমরা তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ভারী বর্ষণে হ্নীলা ও সাবরাংয়ের কয়েকটি গ্রাম মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমরা তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পাশাপাশি অতিভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের সম্ভবনা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাকারীদের অন্যত্রে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারনে আজকে সেন্টমার্টিনে পণ্যেবাহি ট্রলার যেতে পারেনি। তবে আমাদের চেষ্টা চলছে। 

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator