সুন্দরবনে জলদস্যুদের ফের দৌরাত্ম্য, মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে… | আই নিউজ বিডি

সুন্দরবনে জলদস্যুদের ফের দৌরাত্ম্য, মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সুন্দরবনে জলদস্যুদের ফের দৌরাত্ম্য, মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ..
সুন্দরবনে জলদস্যুদের ফের দৌরাত্ম্য, মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
মাথাপিছু এক লাখ টাকা দাবি, বন বিভাগের অভিযান; অপহরণকারীদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আবারও জলদস্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের আমির আলী ও দাতিনাখালী গ্রামের আলম সানার নেতৃত্বাধীন দুটি বাহিনীর পরিচয়ে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের স্বজন ও অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে। অপহৃতদের মুক্তির জন্য মাথাপিছু এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকায় পৃথক ঘটনায় এসব জেলেকে অপহরণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী, সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী এবং কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান।

জেলেদের স্বজন ও ফিরে আসা কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। সেসব নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে নুরুজ্জামান, দিদারুল ও ইমরানসহ নয়জনের মুক্তির জন্য প্রত্যেকের পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নৌকা নিয়ে বনের ভেতরে একা অবস্থান করা সুরাত আলীর মুক্তিপণ তুলনামূলক কম দাবি করা হলেও নির্দিষ্ট টাকার পরিমাণ জানা যায়নি।

এ ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শত শত জেলে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যান। কিন্তু জলদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ না হওয়ায় তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। অপহরণের শিকার হলে অনেক পরিবার জমিজমা, গবাদিপশু কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হয়। আবার লোকলজ্জা ও পরবর্তী বিপদের আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। ফলে এসব ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা ও জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানান, কয়েকজন জেলেকে অপহরণের বিষয়টি জেলেদের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা বন বিভাগের একার পক্ষে কঠিন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হলে সাধারণত জেলেদের পরিবার গোপনে অপহরণকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে। এ কারণে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা জেলেরা অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে চান না। তবে মুক্তিপণের টাকা আদায়ে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের মালিককে শনাক্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

সচেতন মহলের মতে, সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলদস্যুদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, মুক্তিপণ আদায়ের আর্থিক লেনদেন এবং অপহরণের সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করে কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে।

সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের আধার নয়, উপকূলীয় হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। তাই জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপহৃতদের নিরাপদে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator