ভোমরা বন্দর থেকে ১০ টন চাল উধাও, এক বছর পর ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৪ | আই নিউজ বিডি

ভোমরা বন্দর থেকে ১০ টন চাল উধাও, এক বছর পর ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৪..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
ভোমরা বন্দর থেকে ১০ টন চাল উধাও, এক বছর পর ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৪..
ভোমরা বন্দর থেকে ১০ টন চাল উধাও, এক বছর পর ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৪..
ছবি: সংগৃহীত
ভারত থেকে আমদানি করা ২০০ বস্তা চাল গন্তব্যে না পৌঁছে আত্মসাতের অভিযোগ; পরিবর্তন করা হয়েছিল ট্রাকের নম্বর প্লেট..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে ভারত থেকে আমদানি করা ১০ টন চাল প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের তিনটি থানা এলাকা ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আত্মসাতের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দের সময় ট্রাকটির নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, বায়েজীদ বোস্তামী ও বাকলিয়া থানা এলাকা এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সিরাজ মিঞা (৫৫), দেবীদ্বার উপজেলার উজানীকান্দি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে মো. খলিল (৪৭), একই উপজেলার উজানীজোড়া গ্রামের ছলিমউদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. রফিক (৪৪) এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ সৈয়দপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৫০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ মে বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের মুকুল এন্টারপ্রাইজের গুদামের সামনে থেকে ভারত থেকে আমদানি করা ২০০ বস্তা চাল, যার পরিমাণ ১০ টন, একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-১৯৫৩) বোঝাই করা হয়। চালগুলো যশোরের নওয়াপাড়ার এমবিকে এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। এ দায়িত্ব নিয়ে ট্রাকসহ চাল নিয়ে যান চালক কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের সিরাজ মিয়া। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে চাল পৌঁছায়নি।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরার জান্নাত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ম্যানেজার ও পদ্মশাঁখরা গ্রামের বাসিন্দা সাধন দাস বাদী হয়ে গত বছরের ১৭ মে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে ওই দিনই মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্ত শুরু করেন সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিল জোয়ার্দার। তিনি মাগুরার শালিখা এলাকা থেকে সোহাগ হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বদলি হলে মামলার তদন্তভার পান উপপরিদর্শক সমীর গাইন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার সমীর গাইনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের তিনটি থানা এলাকা ও কুমিল্লার দেবীদ্বারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাকলিয়া এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। তবে ট্রাকটির মূল নম্বর প্লেট পরিবর্তন করে অন্য নম্বর প্লেট লাগানো ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত চারজন ও জব্দ করা ট্রাকটি শনিবার (৭ নভেম্বর) সাতক্ষীরা সদর থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (৮ নভেম্বর) গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর আন্তজেলা অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ১০ টন চাল কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, আত্মসাতের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ট্রাকটির নম্বর প্লেট পরিবর্তনের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।

לא נמצאו הערות


News Card Generator