দেবহাটায় মানসিক রোগীকে পিটিয়ে হত্যা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে… | আই নিউজ বিডি

দেবহাটায় মানসিক রোগীকে পিটিয়ে হত্যা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তি যুবদল নেতার..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
দেবহাটায় মানসিক রোগীকে পিটিয়ে হত্যা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তি যুবদল নেতার..
দেবহাটায় মানসিক রোগীকে পিটিয়ে হত্যা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তি যুবদল নেতার..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরায় মব হত্যাকাণ্ড: ওয়াহেদুজ্জামান হত্যা মামলায় যুবদল নেতা ভদুর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মানসিক ভারসাম্যহীন ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে তিন দফায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু। তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরার আমলি আদালত-৩-এর বিচারক নূসরত জাহানের খাসকামরায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি দেওয়া সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরবর্তী সময়ে স্পর্শকাতর এ হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর রোববার বিকেলে সাদিকুল ইসলাম ভদুকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী এবং একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক তার বাড়িতে হামলা চালায়।

পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর আবারও হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। পরে একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ, আনসার সদস্য ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনি, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ফজলুল হক আমিনিও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ওয়াহেদুজ্জামান হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত একাধিক আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ঘটনা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, প্রত্যেকের পৃথক ভূমিকা নির্ধারণ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্তের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

نظری یافت نشد


News Card Generator