দানোত্তম কঠিন চীবর দানে আলীকদমে পুণ্যার্থীদের ঢল | আই নিউজ বিডি

দানোত্তম কঠিন চীবর দানে আলীকদমে পুণ্যার্থীদের ঢল

Md Amir Hosen Sadeky avatar   
Md Amir Hosen Sadeky
দানোত্তম কঠিন চীবর দানে আলীকদমে পুণ্যার্থীদের ঢল
দানোত্তম কঠিন চীবর দানে আলীকদমে পুণ্যার্থীদের ঢল
ছবি: সংগৃহীত
দানোত্তম কঠিন চীবর দানে আলীকদমে পুণ্যার্থীদের ঢল

মোঃ আমির হোসাইন ছাদেকী, আলীকদম (বান্দরবান): বান্দরবানের আলীকদমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শ্রেষ্ঠ দান ‘দানোত্তম’ কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়েছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে।

শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) আলীকদম উপজেলা পানবাজার মালিপ্রু পাড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চতুর্থ বারের মতো এ দান উৎসব সম্পন্ন হয়।

নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে এই বিহারে চতুর্থ বারের মতো কঠিন চীবর দানের এই আয়োজন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য এক বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। অনুষ্ঠানে আলীকদমে বসবাসরত শত শত বৌদ্ধ উপাসক-উপাসিকা ও পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন।

ভারত মোহন পাড়া, মহুল্লু কারবারি পাড়া ও প্রভাত কারবারি পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের যৌথ উদ্যোগে এই মহাধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু উইচারা মহাথেরো। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আমতুলী ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ইন্দ্র জ্যোতি ভিক্ষু এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন মালিপ্রু ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ আর্য জ্যোতি ভিক্ষু।

দিনব্যাপী এ আয়োজনের দুটি প্রধান পর্ব ছিল। প্রথম পর্ব (সকাল ৭:৩০টা থেকে বেলা ১১:০০টা): সকালে বুদ্ধপূজা, সংঘদান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ পর্বে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে বিশেষ ধর্মবাণী পাঠ করেন রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্র গোনা জুমপাড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ জ্যোতি লংকা ভিক্ষু।

দ্বিতীয় পর্ব (দুপুর ১:৩০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা): মধ্যাহ্নভোজ ও বিরতির পর দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু হয়। এ সময় পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে ধর্মবাণী পাঠ করেন রোয়াংছড়ির তাইম্রাছড়া বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ চাইন্দ্র শ্রী ভিক্ষু।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘কঠিন চীবর দান’ অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান বা ‘দানোত্তম’ হিসেবে বিবেচিত। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিন মাসের বর্ষাবাস ব্রত সমাপ্তির পর প্রবারণা পূর্ণিমা থেকে এক মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নিয়মে এই চীবর (পোশাক) দান করা হয়। বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী, কঠিন চীবর দানে অসীম পুণ্য অর্জিত হয় এবং এর মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণ ও আত্মশুদ্ধি লাভ ঘটে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি তথা সারা পৃথিবীর সকল মানুষের সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা ও পুণ্যদান করা হয়।

コメントがありません


News Card Generator