যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরপরই ‘কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স’ (Artificial Superintelligence) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি অ্যারিজোনার এই প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তি খাতকে অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উন্নত এআই (Advanced AI) প্রযুক্তির উন্নয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচনে জয়ের পরদিন গত ৪ নভেম্বর তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আমজনতাও এআই ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন তবে এই বিরোধিতা কেবল প্রযুক্তির বিপক্ষে নয়, বরং বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, ইউটিলিটি বিল বৃদ্ধি এবং শব্দদূষণের মতো নাগরিক ভোগান্তির কারণে তৈরি হয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের সাইবার সিকিউরিটি, ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং ইকোনমিক গ্রোথ সম্পর্কিত সাবকমিটির সদস্য হওয়ায় এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ আসায় ইয়াসামিন আনসারির এই প্রস্তাব মার্কিন প্রযুক্তি নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে
প্রযুক্তি খাতের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান মার্কিন রাজনীতিতে নতুন নয় এর আগে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫০ শতাংশ সরকারি মালিকানা এবং অনুমতি ছাড়া কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই ২০ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব সম্বলিত বিল পেশ করেছিলেন এ ছাড়া একাধিক শীর্ষ সিনেটরও বিগ টেক কোম্পানিগুলোর প্রতি মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন
তবে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত ট্রাম্প প্রশাসন এআই খাতকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণের’ (Self-policing) সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে আনসারির এই প্রস্তাবের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; ক্যানসার আক্রান্ত এক নাগরিক এক্স-এ লিখেছেন, এআই-ভিত্তিক চিকিৎসা গবেষণা তাঁর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে অন্যদিকে শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক পোস্টটি শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, "ইটস আ ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড"