জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যের ডাক জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের | আই নিউজ বিডি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যের ডাক জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যের ডাক জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের..
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐক্যের ডাক জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের..
ছবি: সংগৃহীত
৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।..

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি ১৯৭৫ সালের এই দিনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শফিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, ওই সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্য এবং সাধারণ জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তার মতে, এই সম্মিলিত প্রয়াসই তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশকে এক নতুন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করেছিল, যা আজও জাতীয় জীবনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে গণ্য হয়।

তৎকালীন ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, সে সময় দেশ এক গভীর অনিশ্চয়তার অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সৈনিকদের দেশপ্রেমিক ভূমিকা দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়েও বাংলাদেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শাসন বা স্বৈরতন্ত্রের কালো ছায়া দেশের ওপর চেপে বসেছিল, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান প্রজন্মকে অধিকতর সচেতন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কেবল রাজনৈতিক দল নয়, বরং সরকার, সশস্ত্র বাহিনী এবং ছাত্র-জনতা নির্বিশেষে সবাইকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখতে হবে। তার মতে, জাতীয় ঐক্যই হলো যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি শাখা এবং দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা এই দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে। তার এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যখন নানা ধরনের অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তখন জনগণকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকা।

সামগ্রিকভাবে শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি মনে করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় সংহতি সুসংহত করতে না পারলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা দীর্ঘস্থায়ী করা অসম্ভব। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই বিশেষ সময়ে জামায়াত আমিরের এই বার্তা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। যদি দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তি এই সংহতির আহবানে সাড়া দেয়, তবেই ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান ঠেকানো সম্ভব হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যা বাংলাদেশের আগামী দিনের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য শর্ত।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator