শামীম হত্যা মামলা: ৫ দিনের আবেদনের বিপরীতে ভদুর ৩ দিনের রিমান্ড | আই নিউজ বিডি

শামীম হত্যা মামলা: ৫ দিনের আবেদনের বিপরীতে ভদুর ৩ দিনের রিমান্ড..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শামীম হত্যা মামলা: ৫ দিনের আবেদনের বিপরীতে ভদুর ৩ দিনের রিমান্ড..
শামীম হত্যা মামলা: ৫ দিনের আবেদনের বিপরীতে ভদুর ৩ দিনের রিমান্ড..
ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে ঢুকে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল নেতা ভদু রিমান্ডে

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে তিন দফায় মারধরের মাধ্যমে মানসিক রোগী ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণকারী যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাতক্ষীরার আমলি তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনের করা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, শামীম হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ নভেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর আসামিকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসাদুজ্জামান দিলু। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায় ও অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ।

এদিকে বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাদিকুল ইসলাম ভদু বলেন, তিনি মিছিলকারীদের সঙ্গে ছিলেন, তবে শামীমকে মারধর করেননি। তিনি যুবদলের নেতা বলেও নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম একজন মানসিক রোগী ছিলেন। প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী এবং একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে ধারণ করা কথোপকথনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগের সূত্র ধরে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক শামীমের বাড়িতে হামলা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। পরে পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ, আনসার সদস্য ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনি, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলাটির তদন্ত চলছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শামীম হত্যার ঘটনায় কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

没有找到评论


News Card Generator