ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক অবিশ্বাস্য রাত উপহার দিল ইতালিয়ান ক্লাব কোমো প্রধান কোচ সেস্ক ফাব্রেগাসের অধীনে নিজেদের প্রথম ইউরোপিয়ান অভিযানেই ফরাসি ক্লাব লেন্সকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে যৌথভাবে এক ম্যাচে কোনো একক দলের সর্বোচ্চ ৯ গোল করার রেকর্ড গড়েছে কোমো এর আগে ২০২৪ সালে ডায়নামো জাগ্রেব-এর বিরুদ্ধে ৯টি গোল করেছিল বায়ার্ন মিউনিখ এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এটিই যেকোনো দলের সর্বকালের সর্ববৃহৎ অ্যাওয়ে বা অ্যাওয়ে ম্যাচের জয়
ম্যাচে কোমোর জয়ের নায়ক ছিলেন গ্রীক ফরোয়ার্ড তাসোস দুভিকাস ম্যাচের শুরুতেই কাছ থেকে টানা দুই গোল করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তিনি এরপর টেনারিফে জন্ম নেওয়া উইঙ্গার নিকো পাজ দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন গোল উদযাপনে পাজ একটি টি-শার্ট প্রদর্শন করে শ্রদ্ধা জানান টেনারিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েলের প্রতি, যিনি সম্প্রতি মাঠে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই লেন্সের রক্ষণভাগের ওপর গোলবন্যা ভাসিয়ে দেয় ইতালিয়ান ক্লাবটি বিরতির পর দুই মিনিটের মাথায় অধিনায়ক লুকাস দা কুনহা দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন ৫৩ মিনিটে মার্ক-অলিভার কেম্পফ হেডে পঞ্চম গোল করার পর দুভিকাস নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে মাত্তিয়া লিবারালি সপ্তম গোলটি করলে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায় মাঝে লেন্সের রুবেন আগুইলার কর্নার থেকে চমৎকার ভলিতে একটি গোল শোধ করলেও তা স্বাগতিকদের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো কাজে আসেনি
ম্যাচের শেষভাগে লেন্সের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে মার্টিন বাচুরিনা অষ্টম গোলটি করেন এরপর যোগ করা সময়ে ১৮ বছর বয়সী তরুণ মাত্তেও পাপাসিওলি ম্যাচের নবম গোলটি করেন শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষায় দেখা যায় তার রানটি সঠিক ছিল, যা কোমোর ঐতিহাসিক রাতকে পূর্ণতা দেয় এই অবিস্মরণীয় জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে সেস্ক ফাব্রেগাসের কোমো, আর লেন্স নেমে গেছে ৩৩তম স্থানে