ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি, পর্নোগ্রাফি মামলায়… | আই নিউজ বিডি

ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি, পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার মামুন..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি, পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার মামুন..
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি, পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার মামুন..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরায় ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী সাহেব আলী দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা শহরে বসবাস করেন। গত ১ নভেম্বর তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরবর্তী সময়ে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীর অজান্তে তার দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করেন সাবেক স্ত্রী। পরে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাহেব আলীকে পাঠান।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। অভিযুক্তদের কথা না শুনলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুনরায় যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এ ছাড়া গত ২৯ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর দুপুর দুইটার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বাদী। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত থাকার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী সাহেব আলীর দাবি, প্রথমে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ কিংবা অনুমতি ছাড়া প্রকাশের মতো ঘটনা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার জন্য গুরুতর হুমকি। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ছবি ও ভিডিওর অপব্যবহার বন্ধে আইন প্রয়োগ এবং অপরাধে জড়িত প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ জরুরি।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator