শ্রমিকের পেটে ক্ষুধা, বাজারে আগুন, রাজপথে সংঘর্ষ—রাষ্ট্রের… | আই নিউজ বিডি

শ্রমিকের পেটে ক্ষুধা, বাজারে আগুন, রাজপথে সংঘর্ষ—রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার কঠিন পরীক্ষা..

Sk Mizanur Rahman avatar   
Sk Mizanur Rahman
শ্রমিকের পেটে ক্ষুধা, বাজারে আগুন, রাজপথে সংঘর্ষ—রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার কঠিন পরীক্ষা..
শ্রমিকের পেটে ক্ষুধা, বাজারে আগুন, রাজপথে সংঘর্ষ—রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার কঠিন পরীক্ষা..
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্র কি শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে পারছে, নাকি রাজনীতির সংঘাতে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার?..

বাংলাদেশ আজ এক জটিল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে শ্রমিকের সীমিত আয়, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, মজুরি বৃদ্ধির দাবি, রাজপথে আন্দোলন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, একজন সাধারণ শ্রমিক মাস শেষে যে বেতন পান, তা দিয়ে কি তাঁর পরিবারের খাবার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, যাতায়াত ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব?

রাষ্ট্রের উন্নয়ন যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে না পারে, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল আসলে কার কাছে পৌঁছাচ্ছে?

শ্রমিকের দাবি কি শুধু আন্দোলনের বিষয়, নাকি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন?

২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। ২ ও ৩ নভেম্বর ঢাকা, মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ এবং কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটে।

সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু বোর্ড গঠন করলেই শ্রমিকের পেটের ক্ষুধা মিটবে না। প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত, বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে শ্রমিকদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

একজন শ্রমিক যখন প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও মাস শেষে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারেন না, তখন তাঁর ক্ষোভকে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবি অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে জন্ম নেয়। সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করাই রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব।

আন্দোলনের নামে সহিংসতা কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য?

শ্রমিকের ন্যায্য দাবি যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি আন্দোলনের নামে কারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়িতে আগুন, সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কিংবা অন্যের জীবিকা ধ্বংস করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

যে কারখানায় একজন শ্রমিকের জীবিকা, সেখানে আগুন লাগানো মানে নিজের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া।

আবার কোনো শ্রমিক তাঁর ন্যায্য দাবি জানাতে গিয়ে যেন অন্যায়ভাবে নির্যাতন, হয়রানি, গ্রেপ্তার কিংবা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, শ্রমিকের কণ্ঠরোধ করা নয়। একইভাবে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করার অধিকারও কারও নেই।

প্রতিটি সংঘর্ষে কারা হামলা করেছে, কারা উসকানি দিয়েছে, কারা ভাঙচুর করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।

শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা

সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার, পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর উসকানি, নাশকতা ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার ও নাশকতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—যে শ্রমিক বছরের পর বছর কম মজুরিতে কাজ করছেন, তাঁর বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক অভিযোগের আড়ালে চাপা দেওয়া যাবে কি?

কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শ্রমিকের আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কয়েকজনের অপরাধের দায় সাধারণ শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় অপরাধের প্রমাণ হতে পারে না। অপরাধের প্রমাণ হতে হবে তথ্য-উপাত্ত, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত।

বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থাকা প্রয়োজন

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবস্থান, আন্দোলন প্রতিরোধের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ৩ নভেম্বর দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীকে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিতে দেখা যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, তাঁরা নাশকতা ঠেকাতে সেখানে অবস্থান করছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত?

কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যদি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে বাধা দেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন কিংবা হামলা-নির্যাতনে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপি হোক, যুবদল হোক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা অন্য কোনো সংগঠন—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলে সেটিও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল হতে হয়; আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কোনো দলের নেই।

মজুরি বোর্ড গঠনই শেষ কথা নয়, প্রয়োজন কার্যকর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে—এটি শ্রমিকদের দাবির প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের একটি পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বোর্ড কত দিনের মধ্যে সুপারিশ দেবে? সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়সীমা কী? শ্রমিকেরা কবে থেকে নতুন বেতন হাতে পাবেন?

সরকারের কাছে আমাদের কয়েকটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব রয়েছে।

১. পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।

২. সরকারি মজুরি বোর্ডকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ করতে হবে। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

৩. শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে শুধু কারখানার উৎপাদন ব্যয় নয়, খাদ্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।

৪. মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি বকেয়া বেতন, ওভারটাইম, উৎসব ভাতা, কর্মপরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা ও শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট সময় পরপর মজুরি পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. শ্রমিক আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৭. পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, হয়রানি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে মজুরি বৃদ্ধির সুফলও সীমিত হয়ে যাবে

শ্রমিকের বেতন বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বাজারে যদি চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, সবজি, ওষুধ, বাসাভাড়া ও বিদ্যুতের খরচ লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে বেতন বৃদ্ধির সুফলও দ্রুত হারিয়ে যাবে।

শুধু পোশাকশ্রমিক নয়, কৃষিশ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, দোকান কর্মচারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীসহ দেশের কোটি কোটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ একই সংকটের মুখোমুখি।

রাষ্ট্রের বাজারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সিন্ডিকেটবিরোধী ব্যবস্থা, মজুতদারি প্রতিরোধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে শুধু মজুরি বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হবে না।

রাষ্ট্রের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু পুলিশ, প্রশাসন, আইন কিংবা ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার নিশ্চয়তার ওপর।

শ্রমিক যেন তাঁর ন্যায্য মজুরি পান, মালিক যেন নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের বড় দায়িত্ব।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান—শ্রমিকের ক্ষুধা ও বেঁচে থাকার সংগ্রামকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয় আধিপত্য কিংবা ক্ষমতার লড়াইয়ের হাতিয়ার বানাবেন না।

যারা শ্রমিকের ঘামকে পুঁজি করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেন, তাঁদেরও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়; কিন্তু জনগণের কাছে জবাবদিহি ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব চিরস্থায়ী।

আমাদের প্রত্যাশা: সংঘাত নয়, সমাধান; দমন নয়, ন্যায়বিচার

বাংলাদেশের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁদের শ্রমে তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি হয়, বৈদেশিক মুদ্রা আসে, শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়।

অথচ সেই শ্রমিক যদি নিজের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বাসস্থান ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা না পান, তাহলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ কোথায়?

আমরা চাই না শ্রমিকের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিক। আমরা চাই না কোনো রাজনৈতিক দল শ্রমিকের কাঁধে ভর করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করুক। আমরা চাই না পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটুক। আমরা চাই না একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে হাজার হাজার পরিবারের চুলায় আগুন না জ্বলুক।

আমরা চাই—সরকার দ্রুত কার্যকর মজুরি কাঠামো ঘোষণা করুক, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক, মালিকপক্ষের বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিক এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনুক।

কারণ, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো দয়া নয়, এটি তাঁর অধিকার। আইনের শাসন কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি রাষ্ট্রের ভিত্তি। আর সাধারণ মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার কোনো সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ নয়—এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

বাংলাদেশকে সংঘাতের নয়, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এখনই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি শ্রমিকের ঘাম, সাধারণ মানুষের কান্না আর রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই হারিয়ে যাবে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি?

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator