বরিশালের উজিরপুরে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাম্প্রতিক অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির কর্মী পলাশ কুণ্ড। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে নানা বাধা উপেক্ষা করে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজ এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলাশ কুণ্ড তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পলাশ কুণ্ড বলেন, ২০০৩ সালে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও একই আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ, বিভিন্ন ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও প্রচারণা চালান।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং হামলা-মামলার ভয় উপেক্ষা করে দলের সঙ্গে ছিলেন। তাঁর দাবি, উজিরপুরের নেতাকর্মীরা তাঁকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামে ডাকতেন।
পলাশ কুণ্ড বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তাঁর ভাষ্য, মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি শুরু করেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বর্তমানে তারেক রহমানের দেখানো পথেই রাজনীতি করছেন।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্থায়নে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনসেবামূলক কাজ করেছেন। রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতা বা পদ-পদবি অর্জনের বিষয় নয়, বরং মানুষের সেবা করার মাধ্যম।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৫ নম্বর শোলক ইউনিয়নের প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিও খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পলাশ কুণ্ড। তাঁর দাবি, এতে তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এমন প্রচারণা চালাচ্ছে।
নিজের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ফ্যাসিস্টসুলভ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটি এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পলাশ কুণ্ড বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের ভয় উপেক্ষা করেও দলের সঙ্গে ছিলেন। ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ রক্ষা ও মানুষের সেবায় কাজ করে যেতে চান।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৫ নম্বর শোলক ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে পলাশ কুণ্ড বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনা করে তাঁকে মূল্যায়ন করার জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।