শুধু 'সরি' যথেষ্ট নয়: কার্যকর ক্ষমার গোপন সূত্র | আই নিউজ বিডি

শুধু 'সরি' যথেষ্ট নয়: কার্যকর ক্ষমার গোপন সূত্র

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শুধু 'সরি' যথেষ্ট নয়: কার্যকর ক্ষমার গোপন সূত্র
শুধু 'সরি' যথেষ্ট নয়: কার্যকর ক্ষমার গোপন সূত্র
ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্কের ফাটল জোড়া লাগাতে শুধু 'আমি দুঃখিত' বলাটাই যথেষ্ট নয়। মনোবিদরা বলছেন, কার্যকর ক্ষমার জন্য প্রয়োজন ভুক্তভোগীর কষ্টকে মূল্যায়ন ও দায় স্বীকার। জানুন মনোবিজ্ঞানের গোপন সূত্র।..

দৈনন্দিন জীবনে প্রিয়জন বা বন্ধুদের সঙ্গে চলার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বা আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটতেই পারে কোনও বন্ধু হয়তো দুপুরের দাওয়াত দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা ভুলে গেলেন বা কোনও বিশেষ প্রয়োজনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারলেন না এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত অবধারিতভাবেই একটি কথা উচ্চারিত হয়, ‘তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত!’ কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুই ‘আই অ্যাম সরি’ বা ‘আমি দুঃখিত’ বলাটা আসলে সম্পর্কের ক্ষতি মেরামত করার জন্য যথেষ্ট নয় মনোবিদরা জানিয়েছেন, ভুলের পর স্রেফ দুঃখ প্রকাশ করার চেয়েও মানুষ অন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক উপাদান বেশি আশা করে, যা ছাড়া সম্পর্ক জোড়া লাগা অসম্ভব

কানাডার ওন্টারিওতে অবস্থিত ‘উইলফ্রিড লরিয়ার ইউনিভার্সিটি’র মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক এবং ক্ষমা ও সম্পর্ক-বিষয়ক গবেষক ড. জুডি ইটন বলেন, "মানুষ যখন কোনও আঘাতে বা অবহেলায় ক্ষমা চায়, তখন সে আসলে শুধুই অনুশোচনার শব্দ শুনতে চায় না; বরং সে চায় অপর পক্ষ তার অন্যায়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করুক এবং তার মানসিক কষ্টকে মূল্যায়ন করুক" তার মতে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ভুলকারী ব্যক্তি ভুক্তভোগীর মানসিক যন্ত্রণার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারছেন, ততক্ষণ প্রকৃত ক্ষমা সফল হয় না

সামাজিক বিজ্ঞানী ও মার্কিন মনস্তত্ত্ববিদ রয় বাউমিস্টার এই পরিস্থিতিকে ‘ম্যাগনিচিউড গ্যাপ’ বা ধারণার ব্যবধান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তার তত্ত্ব অনুযায়ী, যেকোনো অন্যায়ের ক্ষেত্রে যিনি ভুক্তভোগী, তিনি আঘাতটিকে অনেক বেশি বড়, দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রভাবশালী হিসেবে দেখেন তুলনায় যিনি অপরাধটি করেছেন, তিনি বিষয়টিকে খুব সাময়িক বা ছোট করে দেখার চেষ্টা করেন ক্ষমা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক অনুভূতির প্রভাব জানতে ড. জুডি ইটন এবং তার সহকর্মীরা একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করে দেখেছেন, যেখানে ভুলকারী ব্যক্তি নিজের দোষটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছিলেন, সেখানেই ক্ষতিগ্রস্তদের মনে ক্ষমার প্রবণতা ছিল অত্যন্ত বেশি ‘পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন’-এ প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অপরাধের তীব্রতা স্বীকার করার পর সেখানে আলাদা করে ‘আই অ্যাম সরি’ শব্দটি বলা হল কি হল না, সেটা ক্ষমার ক্ষেত্রে কোনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ‘ফিশার কলেজ অব বিজনেস’-এর গবেষকদের পরিচালিত এবং ‘নেগোসিয়েশন অ্যান্ড কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, একটি কার্যকর ক্ষমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নিজের কাজের ‘দায়বদ্ধতা’ স্বীকার করা ‘আমি দুঃখিত যদি তুমি কষ্ট পেয়ে থাকো’ বা ‘আমি দুঃখিত তুমি রেগে আছ বলে’— এই ধরনের অজুহাতমূলক বা শর্তযুক্ত ক্ষমা কোনও কাজ করে না কারণ এতে অপরাধ স্বীকারের চেয়ে ভুক্তভোগীর অনুভূতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় আগামী বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশ পেতে যাওয়া ড. জুডি ইটনের লেখা ‘সে ইট লাইক ইউ মিন ইট: দ্য সায়েন্স অব অ্যাপোলজিস’ বইটিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পর্কের ফাটল জোড়া লাগাতে হলে নিজের ভুলের কারণে যে অন্য একজন মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, সেই সত্যকে এবং তার মানসিক অনুভূতিকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator