প্রকাশ্যে পিটিয়ে সুমাইতা হত্যা: গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে… | আই নিউজ বিডি

প্রকাশ্যে পিটিয়ে সুমাইতা হত্যা: গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের রিমান্ড আবেদন..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
প্রকাশ্যে পিটিয়ে সুমাইতা হত্যা: গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের রিমান্ড আবেদন..
প্রকাশ্যে পিটিয়ে সুমাইতা হত্যা: গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের রিমান্ড আবেদন..
ছবি: সংগৃহীত
কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মব সৃষ্টি করে সুমাইয়া খাতুনকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির প্রত্যেককে স..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মব সৃষ্টি করে সুমাইয়া খাতুনকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মল্লিক মনিরুজ্জামান সাতক্ষীরার আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদন করা তিন আসামি হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের মৃত মীর মহসিন আলীর ছেলে মীর আব্দুস সামাদ (৪০), একই গ্রামের মনিরউদ্দিন খানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) এবং নওয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শিমুল হোসেন (৩২)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আদালতে দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া খাতুন হত্যা মামলায় শুক্রবার ও শনিবার পৃথক অভিযানে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে গ্রেপ্তার প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, কারাগারে থাকা সামাদ, শিমুল ও মোস্তাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছেন। তবে মামলার নথি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকায় রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। নথি পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা খাতুনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ কাশিবাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির দেয়াল আলমারির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফারজানা হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা পুলিশের কাছ থেকে আমিরুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদী হয়ে ২২ জুলাই সুমাইয়ার ভাই আল আমিনের নাম উল্লেখ করে কালিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আল আমিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে, ২৫ জুলাই সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন। পরদিন সুমাইয়ার বাবা লতিফ শেখ বাদী হয়ে হামিদুল মোড়ল ও হুসাইন খানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরার আদালতে সিআর-৬২১/২৬ (কালিগঞ্জ) নম্বরে মামলা করেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর সুমাইয়া হত্যা মামলায় কাশিবাটি গ্রামের নূর ইসলাম মীর ও আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধেও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।

তবে সুমাইয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় হামিদুল মোড়ল ও হুসাইন খানসহ এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে অন্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো অগ্রগতি জানা যায়নি।

No comments found


News Card Generator