মিরসরাইয়ের মাঠ কাঁপানো কণ্ঠ সাইদুল ইসলাম, ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হাজারো… | আই নিউজ বিডি

মিরসরাইয়ের মাঠ কাঁপানো কণ্ঠ সাইদুল ইসলাম, ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হাজারো দর্শক..

M.A Hossain avatar   
M.A Hossain
মিরসরাইয়ের মাঠ কাঁপানো কণ্ঠ সাইদুল ইসলাম, ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হাজারো দর্শক..
মিরসরাইয়ের মাঠ কাঁপানো কণ্ঠ সাইদুল ইসলাম, ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হাজারো দর্শক..
ছবি: সংগৃহীত
****

ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ধারাভাষ্যের প্রতি আগ্রহ। টেলিভিশনের পর্দায় পাকিস্তানের রমিজ রাজা, ভারতের রবি শাস্ত্রী কিংবা বাংলাদেশের জাফর উল্লাহ শারাফতের কণ্ঠে ক্রিকেটের বর্ণনা শুনে মুগ্ধ হতেন। খেলার মাঠে বসে তাঁদের মতো করে ধারাভাষ্য দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নকে পুঁজি করেই একসময় মাইক্রোফোন হাতে তুলে নেওয়া। বলছি মিরসরাইয়ের পরিচিত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার সাইদুল ইসলামের কথা।

শৈশব থেকেই ক্রিকেট ছিল তাঁর প্রিয় খেলা। ক্রিকেট খেলতে খেলতেই টেলিভিশনে খেলা দেখার পাশাপাশি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠ। তাঁদের শব্দচয়ন, উপস্থাপনা আর বর্ণনার কৌশল তাঁকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করত। ধীরে ধীরে নিজেও হয়ে ওঠেন মাঠের পরিচিত কণ্ঠ। মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্য দেওয়ার আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন তিনি।

সাইদুল ইসলামের জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ২০১২ সাল। সে বছর জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত ধারাভাষ্যকার অন্বেষণ (কমেন্ট্রি হান্ট) প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ঢাকায় দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকারদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। সেখানে তাঁর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকেই পরবর্তী সময়ে বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথ সহযোগিতার অভাবে জাতীয় পর্যায়ে নিজের প্রতিভা বিকাশের পথটা তাঁর জন্য সহজ হয়নি। বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ সীমিত থাকলেও থেমে থাকেনি তাঁর কণ্ঠের চর্চা।

মিরসরাইয়ের ক্রীড়াঙ্গনে ধারাভাষ্যের কথা উঠলে এনাম বাঙ্গালীর নামের পর সাইদুল ইসলামের নামও বেশ পরিচিত। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি আবারও নিজের কণ্ঠের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন নুরুল আমিন এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় তাঁর সাবলীল, প্রাণবন্ত ও চমৎকার ধারাবর্ণনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। খেলার প্রতিটি মুহূর্তকে শব্দের বুননে জীবন্ত করে তোলেন তিনি। তাঁর ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হন মাঠে উপস্থিত প্রায় হাজারখানেক দর্শক ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।

তবে মাইক্রোফোন হাতে ক্রীড়াঙ্গন মাতানো সাইদুল ইসলামের আরেকটি পরিচয় রয়েছে। তিনি মূলত একজন ইংরেজি শিক্ষক। ফেনীর স্বনামধন্য মৌলভী সামসুল করিম কলেজে খণ্ডকালীন ইংরেজি প্রভাষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

একদিকে শ্রেণিকক্ষে ইংরেজি ভাষার পাঠদান, অন্যদিকে মাঠে ক্রিকেট-ফুটবলের উত্তেজনা শব্দের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে তুলে ধরা—দুটি ভিন্ন জগতেই নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন সাইদুল ইসলাম।

জাতীয় পর্যায়ে ধারাভাষ্যকার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা না পেলেও তাঁর কণ্ঠের সাবলীলতা ও উপস্থাপনার দক্ষতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মিরসরাইয়ের ক্রীড়াঙ্গনে এমন প্রতিভাবান ধারাভাষ্যকারের যথাযথ মূল্যায়ন ও সুযোগ তৈরি হলে জাতীয় পর্যায়েও তিনি নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।

לא נמצאו הערות


News Card Generator