মুক্তিপণের আতঙ্কে সুন্দরবনে যেতে ভয়, দস্যু নির্মূলে পাঁচ দিন ধরে… | আই নিউজ বিডি

মুক্তিপণের আতঙ্কে সুন্দরবনে যেতে ভয়, দস্যু নির্মূলে পাঁচ দিন ধরে রাজপথে বনজীবীরা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
মুক্তিপণের আতঙ্কে সুন্দরবনে যেতে ভয়, দস্যু নির্মূলে পাঁচ দিন ধরে রাজপথে বনজীবীরা..
মুক্তিপণের আতঙ্কে সুন্দরবনে যেতে ভয়, দস্যু নির্মূলে পাঁচ দিন ধরে রাজপথে বনজীবীরা..
ছবি: সংগৃহীত
‘সুন্দরবন বাঁচাও, বনজীবীদের নিরাপত্তা দাও’—দস্যুমুক্তির দাবিতে পঞ্চম দিনের কর্মসূচি..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পঞ্চম দিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই হাজারের বেশি বনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টু, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান, মৌয়াল বাবর আলী গাজী, জেলে মো. আব্দুর রহমান, বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক সরদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং উপকূলীয় হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের কারণে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালরা এখন সুন্দরবনে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর অনেক বনজীবীকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিতে হচ্ছে। মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। আবার নির্ধারিত সময়ে মুক্তিপণ দিতে না পারায় অপহৃত ব্যক্তিদের হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। এতে শুধু বনজীবীরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নামে আত্মসমর্পণের নাটক বন্ধ করতে হবে। যারা বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে যারা বনদস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে, তাদেরও শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে বনদস্যুদের মুক্তিপণের চাপ, অন্যদিকে বৈধ পাস-পারমিট থাকা সত্ত্বেও বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করে সরকারি নির্ধারিত নিয়মে বন ব্যবস্থাপনা ও প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

সমাবেশ থেকে সুন্দরবনে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান, অপহৃত বনজীবীদের নিরাপত্তা ও মুক্তি নিশ্চিত করা, দস্যুদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা এবং বন বিভাগের অনিয়ম-হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।

কর্মসূচি শেষে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামুজ্জাহান কণক বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন আন্দোলনকারীরা।

প্রকাশনার আগে একটি সম্পাদকীয় পরামর্শ: বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং বনদস্যুদের নির্যাতনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা ও ভারসাম্য আরও বাড়বে। একই সঙ্গে পঞ্চম দিনের আন্দোলনের আগের চার দিনের কর্মসূচির স্থান ও তারিখ যুক্ত করা গেলে ধারাবাহিক আন্দোলনের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে।

Nessun commento trovato


News Card Generator