শিশু ফারজানা হত্যার সন্দেহে আটক সুমাইয়াকে পিটিয়ে হত্যা: ঘটনায় জড়িত… | আই নিউজ বিডি

শিশু ফারজানা হত্যার সন্দেহে আটক সুমাইয়াকে পিটিয়ে হত্যা: ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ৩ জন গ্রেপ্তার..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
শিশু ফারজানা হত্যার সন্দেহে আটক সুমাইয়াকে পিটিয়ে হত্যা: ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ৩ জন গ্রেপ্তার..
শিশু ফারজানা হত্যার সন্দেহে আটক সুমাইয়াকে পিটিয়ে হত্যা: ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ৩ জন গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত
কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের হেফাজতে থাকা সুমাইয়া খাতুনকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে ও থেঁতলে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের হেফাজতে থাকা সুমাইয়া খাতুনকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে ও থেঁতলে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে এবং শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি ও নওয়াপাড়া গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কাশিবাটি গ্রামের মৃত মীর মহসিন আলীর ছেলে মীর আব্দুস সামাদ (৪০), একই গ্রামের মনিরউদ্দিন খানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) এবং নওয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শিমুল হোসেন (৩২)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান মল্লিকের আদালতে দাখিল করা আসামি পাঠানোর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মীর আব্দুস সামাদকে, নওয়াপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শিমুল হোসেনকে এবং কাশিবাটি গ্রামের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজনকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান মল্লিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে। তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ কাশিবাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির দেয়াল আলমারির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ফারজানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আমিরুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং থেঁতলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা এলাকায় মব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদী হয়ে ২২ জুলাই সুমাইয়া খাতুনের ভাই আল আমিনের নাম উল্লেখ করে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আল আমিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে, ২৫ জুলাই সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন। পরদিন সুমাইয়ার বাবা লতিফ শেখ বাদী হয়ে হামিদুল মোড়ল ও হুসাইন খানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরার আদালতে সিআর-৬২১/২৬ (কালিঃ) নম্বর মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ কাশিবাটি গ্রামের নূর ইসলাম মীর ও আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল।

একটি শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার মধ্যেই পুলিশের হেফাজত থেকে একজনকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা পুরো এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator