চাঁদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুর রহমান মিয়াজী গত ৩১ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন স্বজনরা, কিন্তু পথিমধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চাঁদপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর বিএনপির সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ রাজনৈতিক মহলে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। আব্দুল গফুর মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা হিসেবে এলাকায় তাঁর বিশেষ সামাজিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল, যা তাঁর অকাল মৃত্যুতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
মরহুম আবদুর রহমান মিয়াজীর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি শিক্ষানুরাগী হিসেবেও এলাকায় বিশেষ পরিচিতি ছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত মমতাজ উদ্দিন পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর এই দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে তাঁর নিষ্ঠা স্থানীয় মহলে প্রশংসিত ছিল। তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মতে, তিনি কেবল একজন দলীয় সংগঠকই ছিলেন না, বরং সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সর্বদা সক্রিয় থেকে স্থানীয় উন্নয়ন ও সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর শৃঙ্খলাবোধ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত হতো, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাঁকে একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি সর্বদা দলের দুঃসময়ে পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা তাঁর অনুপস্থিতিতে মমতাজ উদ্দিন পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা ও সততার কথা স্মরণ করে স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, আবদুর রহমান মিয়াজীর মতো একজন ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া চাঁদপুরের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের জন্য এক বিরাট ধাক্কা, যার রেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিশেষে, একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মীর এই বিদায় কেবল তাঁর পরিবারের জন্য নয়, বরং চাঁদপুরের সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ক্ষতি। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে শোকের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর রেখে যাওয়া কাজের গভীরতা ও জনপ্রিয়তার পরিচয় দেয়। জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া শেষে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও কর্মময় জীবন আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।