জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক যুবককে অপরহরণ করে জোরপূর্বক টাকা ছিনতাই, অস্ত্রের ধরে মাদকসেবনে বাধ্য করে ভিডিও করা, নন জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারের ছেকা দেওয়া ও মারপিটের অভিযোগে সন্ত্রাসী রাজুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের বেলতলী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। রাজুসহ অন্যান্য আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগি ও তার পরিবার।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর আক্কেলপুর উপজেলার করমজি (কৈগাড়ী) গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে পারিবারিক কাজে পার্শবর্তী বুড়াপুকুর বাজারে আসেন। এসময় আসামীরা পূর্ব শত্রুতার জেড় ধরে আল আমিনের পথ রোধ করে মারপিট করে জোরপূর্বক অপহরণ করে প্রায় ৪ কিলোমিটার দুরে বেলতলী নামক স্থানে নির্জন ঝোড় জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে রাজুসহ তার বাহিনী মারপিট করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় আল আমিনের কাছে ব্যবসায়ীক কাজে থাকা ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল রাজুসহ আসামীরা ছিনিয়ে নেয় এবং বাকী ১ লাখ ১০ হাজার টাকা না দিলে ছেড়ে দেওয়া হবেনা বলে জানায়। আসামীরা আল আমিনকে দীর্ঘ ৪ ঘন্টা অপহরন করে মারপিটের পরেও টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামীরা জোর পূর্বক ফাঁকা নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়।
এসময় রাজু ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক মাদক সেবনের মোবাইলে ভিডিও ধারন করে। এরপর আসামীরা আল আমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দেয়। ১নং আসামী জবাই করার জন্য ধরালো ছোরা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় মারপিট ও ভয়ে আল আমিন জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলে আসামীরা মারা গেছে ভেবে ফেলে চলে যায়।
পরে জ্ঞান ফিরলে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান, সেখানে চিকিৎসা নেন। এরপর ৩০ অক্টোবর আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগি আল আমিনের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক। মামলা করার পর থেকে আল আমিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অভিযোগ ভুক্তভোগি পরিবারের। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
মামলার আসামীরা হলেন, আক্কেলপুর উপজেলার চাঁড়দীঘি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রাজু আহম্মেদ (৩২), সরোয়ারের ছেলে হৃদয় (৩০) জালাল উদ্দীনের ছেলে সোহাগ (৩৭), সুবাস চন্দ্রের ছেলে শ্রী হরিদাস (২৬), পুকুরিয়া পাড়ার অনোয়ার হোসেনের ছেলে আশিক (২৬), সাহানুর রহমান সান্টুর ছেলে তাইফ আহম্মেদ (২১) সরোয়ার হোসেনের ছেলে সম্রাট (২০), বুড়ারপুকুর গ্রামের আঃ ছালামের ছেলে চপল আহম্মেদ (২১), চেঁচুরিয়া গ্রামের দিলবর আলীর ছেলে মাহবুবুর রহমান (৪০), বিষ্ণুপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৩) ও নওগাঁর ভবানীপুর গ্রামের আঃ ছালামের ছেলে মোঃ রুবেল (৩৫)। এছাড়া ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়।
উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত রাজু ও তার বাহিনী গত ২২ আগস্ট আক্কেলপুরের কৃষ্ণকোলা গ্রামের কাসেম আলীর গ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় মামলার পর তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও বেপোয়োরা হয়ে যান।
এছাড়াও রাজুর বিরুদ্ধে আদালতে ট্রান্সফরমার চুরির আরেকটি মামলা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগি আল আমিন বলেন, আমাকে বুড়াপুকুর বাজার থেকে অপরহরণ করে বেলতলী নামক স্থানে নির্জন ঝোড় জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে।
অস্ত্রের ধরে মাদকসেবনে বাধ্য করে ভিডিও করেছে, নন জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছেকা দিয়ে মারপিট করেছে। তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি। তারপর আমার বাবা মামলা করেছে। এখন রাজু মামলা থেকে বাচার জন্য নানা রকম মিথ্যা বানোয়াট কথাবার্তা বলতেছে। রাজু ও তারদলবল গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজুর সাথে এসব বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আল আমিন আমার কাছে কাজ করতো। আমি তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা পাবো। এই টাকা পাওয়াকে কেন্দ্র করে বুড়াপুকুর বাজারে ধরা হয়েছিল। কিন্তু মারধর বা অপহরণ করা হয়নি। এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাসুদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে জোড় তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। রাজুর বিরুদ্ধে পূর্বেরও মামলা রয়েছে।