নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাড়ে ৬ লাখ টাকার ভারতীয়… | আই নিউজ বিডি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাড়ে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্যসহ গ্রেপ্তার ৫..

এম আর উজ্জ্বল avatar   
এম আর উজ্জ্বল
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাড়ে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্যসহ গ্রেপ্তার ৫..
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাড়ে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্যসহ গ্রেপ্তার ৫..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বল ও গবাদিপশু জব্দ করেছে পুলিশ; অভিযানে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।..

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলায় চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা প্রায় ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে এবং চোরাচালান ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়। মূলত সীমান্তবর্তী এই জনপদে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যেই পুলিশ এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অভিযান চলাকালে শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা ১০০টি কম্বল উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এই ঘটনায় জড়িত একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এছাড়াও পৃথক অভিযানে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো ১২টি ষাঁড় বাছুর জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গবাদিপশু চোরাচালানের দায়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী চোরাচালান চক্র দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য ও গবাদিপশু পাচার করে আসছে, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। পুলিশ আইনের ৩৪(৬) ধারায় জনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও দুজনকে আটকের মাধ্যমে এই অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যে কোনো ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন আপসহীন। তিনি আরও জানান, শুধু পণ্য জব্দ নয়, বরং চোরাচালানের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের এমন সক্রিয়তা প্রশংসনীয়, তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবেই সীমান্ত অপরাধের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় বাজারে বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের এই বিশেষ অভিযান সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাকারবারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। অবৈধ গবাদিপশু ও পণ্য পাচার রোধে পুলিশের এই কঠোর ভূমিকা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হলে তা অত্র অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি চোরাচালানমুক্ত একটি নিরাপদ সীমান্ত এলাকা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator