পূর্বধলায় ইয়াবাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড | আই নিউজ বিডি

পূর্বধলায় ইয়াবাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড..

এম আর উজ্জ্বল avatar   
এম আর উজ্জ্বল
পূর্বধলায় ইয়াবাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড..
পূর্বধলায় ইয়াবাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার যাত্রাবাড়ী বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে চার পিস ইয়াবাসহ নুরুজ্জামান নামের এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।..

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার যাত্রাবাড়ী বাজার এলাকায় শনিবার ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নুরুজ্জামান নামের এক যুবককে আটক করেছে প্রশাসন। আটককৃত নুরুজ্জামান উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করে চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক কেনাবেচা ও সেবনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই তৎপরতা স্থানীয় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। জব্দকৃত আলামতসহ নুরুজ্জামানকে আটক করার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবহিত করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের নির্দেশক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী আদালত নুরুজ্জামানকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডাদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া হিসেবে আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী বাজার এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক কারবারিদের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। নুরুজ্জামানের মতো খুচরা মাদক বিক্রেতারা স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করে তুলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানই স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এই মাদক চক্রের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। নুরুজ্জামানের আটকের ঘটনাটি মাদকবিরোধী লড়াইয়ের একটি অংশ মাত্র, কিন্তু এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব নয়। মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ী মহল প্রশাসনের কাছে নিয়মিত টহলের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার মূল লক্ষ্য হলো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা এবং মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধ করা। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করলেই মাদকের সহজলভ্যতা কমবে না। পাইকারি সরবরাহকারীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। পূর্বধলা থানার পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, আটককৃত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকদ্রব্যের এই অবাধ বিস্তার একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নুরুজ্জামানের কারাদণ্ডের মাধ্যমে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রশাসন মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে মাদক বিরোধী সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে। ভবিষ্যতে পরিবহন ও জনসমাগমস্থলগুলোতে মাদক কারবারিদের তৎপরতা রোধে প্রশাসনের এই সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

نظری یافت نشد


News Card Generator