পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড: বিচারিক… | আই নিউজ বিডি

পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড: বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগ..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড: বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগ..
পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড: বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলি ছাট্টাকে ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভী..

পাকিস্তানের একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত গত ২৫ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সংঘটিত একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি এবং তাঁর স্বামী হাদি আলি ছাট্টাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বহরের জন্য নির্ধারিত রাস্তার ব্যারিকেড অপসারণ এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর ধারায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে কেবল ১০ বছরের কারাদণ্ডই নয়, বরং সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের ওপর বলপ্রয়োগের দায়ে অতিরিক্ত সাজা এবং ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত এই রায় এমন এক সময়ে ঘোষণা করল যখন এই দম্পতি ইতিমধ্যে গত কয়েক মাস ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি জীবন অতিবাহিত করছেন। এর আগে সামরিক বাহিনীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার দায়ে তাঁদের ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক স্থগিত করা হলেও পুনরায় গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাঁদের মুক্তি আটকে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী এই দম্পতি শুরু থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেদের বিবেকবান বন্দি হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাদি আলি ছাট্টা গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাঁদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তাঁদের আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, প্রতিটি জামিন লাভের পরই নতুন কোনো ফৌজদারি মামলা বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে তাঁদের কারাগার থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়া কারাগারের ভেতরে স্থানান্তর করা এবং শুনানির সময় তাঁদের একটি খাঁচার মতো কাঠামোর ভেতরে আবদ্ধ করে রাখার ঘটনাটি পাকিস্তানের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। এই দম্পতির দাবি, যারা স্বৈরাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁদের ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই সাজাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কার্যত তাঁদের আইনি পেশা ও নাগরিক অধিকার চর্চাকে স্তব্ধ করার একটি কৌশল মাত্র।

এই বিচারিক রায়ের বিপরীতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই দম্পতিকে কোনো ধরনের উন্মুক্ত ও সুষ্ঠু বিচারের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা ও চরমপন্থি আচরণের বহিঃপ্রকাশ। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করছে যে, নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের বিচারই করা হয়েছে, তবে সমালোচকরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। বিশেষ করে, ইমান মাজারি ও হাদি আলি ছাট্টা অতীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে যে আইনি লড়াই চালিয়েছেন, তার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আইনি প্রক্রিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন যে, আইনি প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই দণ্ডাদেশের প্রভাব পাকিস্তানের মানবাধিকার ও আইনি অঙ্গনে সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবীদের একের পর এক কারাবন্দি করা এবং আইনি সুরক্ষাকে সংকুচিত করার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। ইমান মাজারি ও হাদি আলি ছাট্টার মতো পেশাজীবীদের কণ্ঠরোধের এই প্রচেষ্টা কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেই বিপর্যয় আনছে না, বরং এটি পাকিস্তানের নাগরিক সমাজের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিচারিক পদক্ষেপ যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ণ করবে এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের নিশ্চয়তা না থাকলে গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত যে নড়বড়ে হয়ে পড়ে, এই ঘটনাটি তারই একটি উজ্জ্বল ও মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator