লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরো ১৭৪ জন বাংলাদেশি, আগামীকাল আরও ১৭২ জনকে… | আই নিউজ বিডি

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরো ১৭৪ জন বাংলাদেশি, আগামীকাল আরও ১৭২ জনকে মানবিক প্রত্যাবাসনঃ..

Ali Afzal Khan avatar   
Ali Afzal Khan
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরো ১৭৪ জন বাংলাদেশি, আগামীকাল আরও ১৭২ জনকে মানবিক প্রত্যাবাসনঃ..
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরো ১৭৪ জন বাংলাদেশি, আগামীকাল আরও ১৭২ জনকে মানবিক প্রত্যাবাসনঃ..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রবাসী ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

সৈয়দ খায়রুল আলম, আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আইওএম-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেকেই মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি, অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।
বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর প্রতিনিধিরা তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় কর্মকর্তারা ফেরত আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি করেন, যাতে সাধারণ মানুষ মানবপাচারকারীদের পাতা ফাঁদে আর পা না দেন।
প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক নাগরিককে বিমানবন্দরে আইওএম-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, জরুরি খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি যাঁদের তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের প্রয়োজন, তাদের জন্য সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা অন্য অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংগঠন পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জানান অবৈধভাবে দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে না যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা দরকার। খায়রুল আলম জানান কোন গার্ডিয়ান স্থানীয় প্রশাসন, সচেতন আত্নীয় স্বজন, থানা পুলিশের সহায়তা ছাড়া কাউকে (দালাল চক্র) গোপনে টাকা লেনদেন করে সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে তার জীবনকে ঝুকিতে ফেলবেন না। সবাই একটু সচেতন হলে অবৈধভাবে দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। বৈধ ট্রাভেল এজেন্সি, সঠিক ঠিকানা,বৈধ ভিসা, কাজের ধরন, ব্যাংক এ চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান, অফিসিয়াল রিসিটে টাকা প্রদানের মানি রিসিট সংগ্রহ করা, প্রতিষ্ঠানের এমডি চেয়ারম্যান ক্যাশিয়ার এর নজরে এনে লেনদেন করে সঠিক মনে হলে তারপর সন্তান কে বিদেশে পাঠানো উচিত, লিবিয়া হয়ে অন্য দেশে বিশেষ করে ইটালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখা সন্তান কে বুঝিয়ে এধরনের ঝুকিতে ফেলবেন না। এধরণের প্রতারক চক্রকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ করেন পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম। 

লিবিয়া থেকে আরও ১৭২ জনকে মানবিক প্রত্যাবাসনঃ
বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে ১৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মানবিক প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত নাগরিকরা বুরাক এয়ারের ফ্লাইট নং UZ222 যোগে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ০৬:০০ ঘটিকায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator