গোপালগঞ্জে সরকারি কলেজের সম্পদ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি আটক | আই নিউজ বিডি

গোপালগঞ্জে সরকারি কলেজের সম্পদ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি আটক..

Md. Imran Sheikh avatar   
Md. Imran Sheikh
গোপালগঞ্জে সরকারি কলেজের সম্পদ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি আটক..
গোপালগঞ্জে সরকারি কলেজের সম্পদ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি আটক..
ছবি: সংগৃহীত
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ড. ইমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের পরিত্যক্ত ভবন থেকে মালামাল চুরির অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি সাহেদ তালুকদারকে আটক করেছে পুলিশ।..

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত ড. ইমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সরকারি সম্পদ চুরির দায়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ তালুকদারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ তাকে আটক করে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৭ অক্টোবর যখন কলেজ বন্ধ থাকার সুযোগে সাহেদ তালুকদার তার সহযোগীদের নিয়ে কলেজের পরিত্যক্ত ভবনের জানালা, বারান্দার গ্রিল এবং তিনটি ফ্যান জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, এই চুরির ঘটনায় প্রায় ৪০ হাজার টাকার সরকারি মালামাল খোয়া গেছে এবং কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত ২০০ কেজি রডও চুরি করা হয়েছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আত্মসাতের এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো করেছে।

ভুক্তভোগী কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চুরির সময় কলেজের কর্মচারী রিথুন তালুকদার ও কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাহেদ ও তার সহযোগীরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার দিন শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতেই অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সাথে এই চুরির কার্যক্রম চালানো হয়েছে, যা কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয় বরং পেশিশক্তির বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহেদ তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিকে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে আসছেন এবং স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সৌরভ ট্রেডার্স’-এর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণ শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো হতো, যার ফলে কলেজের উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আইয়ূব আলী জানিয়েছেন, কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সাহেদ তালুকদারকে আটক করা হয়েছে এবং শুক্রবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এই ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে কারণ স্থানীয় বাসিন্দারা সাহেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি, সড়কের সাইনবোর্ড থেকে লোহার পাইপ খুলে নেওয়া এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। যদিও অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটন করা হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি সম্পদ লুণ্ঠনের এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার প্রবণতা ভবিষ্যতে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা আরও প্রকট হবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আরও কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর খবরদারি করার সাহস না পায়।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator