সিরাজগঞ্জে পুলিশের টহল গাড়ির কাছেই মহাসড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও হুমকি প্রদর্শনের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। একই সাথে এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সানতু পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—যমুনা সেতু পশ্চিম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আরিফ, গাড়ি চালক কনস্টেবল আব্দুল গফুর, কনস্টেবল নাসিমুজ্জামান ও মোরশেদুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশের গাড়ি দেখা যাওয়ায় ঘটনাটিতে পুলিশ সদস্যদের কোনো অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই ওই ভ্যানে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যনিষিদ্ধ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়ক এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল চলাকালে পুলিশের টহল গাড়ি কাছে এলে মিছিলকারীরা পুলিশকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে দুপুর নাগাদ এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান। তারা হলেন, জানপুর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ ও অলোকা বেগমের ছেলে লিটন শেখ, দত্তবাড়ি এলাকার মৃত সাইদুল ইসলামের ছেলে ইউনুস আলী নিশাত ওরফে আগুন শেখ এবং চক কোবদাসপাড়া এলাকার মৃত শওকত আলী শেখের ছেলে চান শেখ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা জুলাই আন্দোলনের সময় সিরাজগঞ্জে সংঘটিত হত্যা মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।