রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া শূন্য আসনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) উপনির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ১৮৫টি কেন্দ্রের ৯৮৯টি কক্ষে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন পর পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। চলতি বছরেই দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ)। ভোট দেওয়ার পর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।"
অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত) দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে নানান অভিযোগের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কঠোর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার
গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য ও ৭ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ২১ প্লাটুন বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন ও এসআরবি সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। এছাড়া সারা দেশের বিশেষ নজর এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই প্রথম ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দুটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভোটার ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বডি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্র মনিটরিং করা হচ্ছে এবং বর্তমানে পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যজোট প্রার্থীর মধ্যে। বেলা গড়ালে ভোটের এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ