আব্দুল কাইয়ুম নাহিদ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীসহ কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে নগদ ৩১ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘কাশ্মীর গ্রুপ’ নামের প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হেলমেট ও কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কারখানার সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি, ছুরি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা ছিল।
প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৪ জন ব্যবস্থাপক ও ৪ জন মেশিন অপারেটর ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
কর্মচারীদের জিম্মি করার পর ডাকাত দল কারখানার মূল ফটক খুলে একটি পিকআপ ভ্যান ভেতরে প্রবেশ করায়। এরপর ক্যাশ সেকশনের দুটি সিন্দুকের তালা ভেঙে নগদ ৩১ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে।
শুধু নগদ টাকাই নয়, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ৫ হাজার কেজি তামার তার, ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫০০ কেজি কপার পাইপ, ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি সিসি ক্যামেরা, ৫৫ হাজার টাকার সিসি ক্যামেরার এনবিআর, ৩৫ হাজার টাকার কম্পিউটার এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮টি স্মার্টফোনসহ সর্বমোট ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। ভোর ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে পুরো ডাকাত দল দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ ডাকাতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জ-খ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ এবং সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল বারিক বলেন, "এ ঘটনায় থানায় একটি ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এলাকায় এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।