বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে সুদূর কলকাতা থেকে শেকড়ের টানে ডি.এন. হাই স্কুলে কন্যা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে সুদূর কলকাতা থেকে শেকড়ের টানে ডি.এন. হাই স্কুলে কন্যা..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে সুদূর কলকাতা থেকে শেকড়ের টানে ডি.এন. হাই স্কুলে কন্যা..
বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে সুদূর কলকাতা থেকে শেকড়ের টানে ডি.এন. হাই স্কুলে কন্যা..
ছবি: সংগৃহীত
১৯৫৮ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রয়াত বিমল কান্তি দত্তের শেষ ইচ্ছা পূরণে তাঁর কন্যা শিল্পী দত্ত পাল সস্ত্রীক ভারত থেকে এসে পরিদর্শন করলেন পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী ডি.এন. হাই স্কুল।..

১৯৫৮ সালে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী ডি.এন. হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করা বিমল কান্তি দত্তের রেখে যাওয়া স্মৃতির সন্ধানে ৬৮ বছর পর তাঁর কন্যা শিল্পী দত্ত পাল ও জামাতা অতনু পাল বিদ্যালয়টিতে এক আবেগঘন সফর সম্পন্ন করেছেন। বিমল কান্তি দত্ত কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় ভারতের কলকাতায় প্রকৌশলী হিসেবে অতিবাহিত করলেও জন্মভূমির প্রতি তাঁর টান কখনোই ম্লান হয়নি। ২০১২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বাবার জন্মস্থানে ফিরে আসার অপূর্ণ স্বপ্নটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাঁর কন্যা এই দীর্ঘ যাত্রার উদ্যোগ নেন। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে শিল্পী দত্ত পাল কেবল বাবার ফেলে আসা শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোকে নতুন করে আবিষ্কার করেননি, বরং দুই বাংলার মানবিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

দীর্ঘদিন পর বাবার স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রেখে শিল্পী দত্ত পাল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, বাবার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত পিরোজপুরের এই বিদ্যালয় এবং নিজের শেকড় নিয়ে যে তীব্র আকুতি ছিল, তা পূরণ করতেই তিনি আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। শিল্পী দত্ত পাল নিজে কলকাতার কেন্দুয়া মহেন্দ্রনাথ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং তাঁর স্বামী অতনু পাল প্রান্ত পল্লী হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষা পেশায় নিয়োজিত এই দম্পতি যখন বিদ্যালয়ের পুরনো অবকাঠামো এবং বর্তমান পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তখন তাঁরা কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখেননি, বরং বিমল কান্তি দত্তের সেই পুরনো দিনের ছাত্রজীবনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছেন। ভুক্তভোগী বা শোকাতুর পরিবারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা মূলত একটি পারিবারিক ইতিহাসের বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে শেকড়ের গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ডি.এন. হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও গৌরবময় ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাস্টিকা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মার্গারেট মনিকা জেনেস উপস্থিত থেকে দুই বাংলার শিক্ষক সম্প্রদায়ের মধ্যে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্মারক হিসেবে ‘প্রজ্ঞামঞ্জরী’ গ্রন্থটি অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা বিমল কান্তি দত্তের মতো প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পরিদর্শনকে কেবল একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের এক মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই আবেগঘন সফরটি প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক সীমান্ত রেখা কখনোই মানুষের স্মৃতির গভীরতাকে আড়াল করতে পারে না। শিল্পী দত্ত পালের এই পরিদর্শন ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁদের জন্মভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন। একজন প্রকৌশলীর জীবনকাহিনি যখন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে পুনরায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসে, তখন তা বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ঐতিহ্যের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। শিক্ষা ও স্মৃতির এই মেলবন্ধন কেবল বিমল কান্তি দত্তের পরিবারের জন্য নয়, বরং ডি.এন. হাই স্কুলের দীর্ঘ পথচলায় একটি স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শেকড়ের টানে উদ্বুদ্ধ করবে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator