বর্তমান সরকারের শাসনামলে ৮০ হাজার কর্মসংস্থান হারানো ও জাতীয় সংকটের তীব্র সমালোচনা অলি আহমেদের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বর্তমান সরকারের শাসনামলে ৮০ হাজার কর্মসংস্থান হারানো ও জাতীয় সংকটের তীব্র সমালোচনা অলি আহমেদের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বর্তমান সরকারের শাসনামলে ৮০ হাজার কর্মসংস্থান হারানো ও জাতীয় সংকটের তীব্র সমালোচনা অলি আহমেদের..
বর্তমান সরকারের শাসনামলে ৮০ হাজার কর্মসংস্থান হারানো ও জাতীয় সংকটের তীব্র সমালোচনা অলি আহমেদের..
ছবি: সংগৃহীত
এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি তো দূরের কথা, উল্টো ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে।..

বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি দাবি করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে উল্টো চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে। বিনিয়োগের এই খরা এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, যেখানে মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। অলি আহমেদ বলেন, মানুষ এখন রাতে ঘুমানোর বা রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বোধ করছে না। এছাড়া বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার এখন কেবল সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের জন্য উন্মুক্ত, সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়েও তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক ব্যাংক বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার পথে, যার ফলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রবাসীরাও বর্তমানে চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন ওয়ার্ক পারমিট পেতে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে, অথচ কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। প্রবাসীদের এই দুর্দশা নিরসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলোর কার্যকর ভূমিকার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে অলি আহমেদ কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশ রাজনৈতিক তোষামোদিতে ব্যস্ত। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংসদ সদস্যদের পেছনে সময় ব্যয় করতে দেখা যাচ্ছে, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্বের পরিপন্থী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করা নয়। এছাড়া তিনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী কর্মীরা ফিরে এলে দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করে এবং প্রবাসীদের সমস্যাসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দেয়, তবে জাতীয় অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামবে। তিনি সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং সব ধর্মের মানুষের অধিকার সুরক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

পরিশেষে, অলি আহমেদ বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভুল পরামর্শদাতাদের কারণে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতীতের রাজনৈতিক সমঝোতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানই ছিল জাতীয় অগ্রগতির মূল পথ। বর্তমান সরকার ও বিরোধী পক্ষকে রাজনৈতিক বিরোধ কমিয়ে জনগণের দুর্ভোগের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নই এখন দেশ ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার একমাত্র উপায়। মানুষের পেটে ভাত নেই এবং চোখে ঘুম নেই—এমন বাস্তবতায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেশের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। অলি আহমেদের এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, বর্তমান সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবই সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মানকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator