ডুমুরিয়ায় ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চক্র: অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডুমুরিয়ায় ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চক্র: অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড..

LATIF MORAL avatar   
LATIF MORAL
ডুমুরিয়ায় ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চক্র: অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড..
ডুমুরিয়ায় ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চক্র: অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড..
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়ায় রোগাক্রান্ত ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বাজারজাত করার দায়ে আনিচুর রহমান পলাশ নামের এক ব্যবসায়ীকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।..

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি অসাধু মাংস সিন্ডিকেটের মূলহোতা আনিচুর রহমান পলাশকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সোহেল রানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ডাদেশ দেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্পেশাল রেসপন্স বাহিনীর (এসআরবি)-৬ এর একটি আভিযানিক দল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কাঞ্চনপুর গ্রামের ওই দুর্গম এলাকায় অভিযান চালায়। সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল নামক একটি কথিত ফার্মের আড়ালে টিনশেড ঘেরা জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং প্যাকেটজাত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করে। একই সময়ে জবাইয়ের অপেক্ষায় থাকা আরও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মূলহোতা পলাশকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েক জন শ্রমিক পালিয়ে গেলেও অসাধু এই মাংস ব্যবসায়ীর জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অধিক মুনাফার নেশায় অভিযুক্ত পলাশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগাক্রান্ত ও অকেজো ঘোড়া কম দামে কিনে নিজের ফার্মে মজুদ করতেন। গভীর রাতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিকের সহায়তায় এসব ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুত করা হতো। পরে সেই মাংস পলিথিনে প্যাকেট করে গরুর মাংস হিসেবে ঢাকা ও খুলনা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করা হতো। ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের এই মাংস অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করে আসছিলেন পলাশ। মূলত জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উপেক্ষা করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে চলা এই প্রতারণা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পলাশ, যা জননিরাপত্তার জন্য এক বড় ধরনের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সোহেল রানা জানিয়েছেন, প্রাণী সম্পদ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত মাংস মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ডুমুরিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসআরবি-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার জায়েনুদ্দীন মোহাম্মদ জাহিদ এ বিষয়ে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছিল, যার ফলে অসাধু এই চক্রের হোতাকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল একজন ব্যবসায়ীকে দণ্ড দিলেই এই চক্র নির্মূল হবে না। বরং এর পেছনে জড়িত বড় কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না এবং পাইকারি বাজারে এই মাংস কীভাবে প্রবেশ করছিল, তা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা জরুরি। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পুনরায় এমন জঘন্য অপরাধের সাথে যুক্ত হতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং মাংসের মান পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এই ঘটনার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মাংস কেনা নিয়ে এক ধরনের আস্থাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যে ভেজাল মেশানোর এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন রোগাক্রান্ত প্রাণীর মাংস বাজারজাত করা হয়। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জনমনে কিছুটা স্বস্তি আনলেও, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সাথে জড়িত। ডুমুরিয়ার এই ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহ চেইন কতটা অনিরাপদ ও অসাধু চক্রের কবলে থাকতে পারে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator