কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম ঘিরে আবাসন সংকট: অব্যবস্থাপনায় পর্যটক ভোগান্তির আশঙ্কা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম ঘিরে আবাসন সংকট: অব্যবস্থাপনায় পর্যটক ভোগান্তির আশঙ্কা..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম ঘিরে আবাসন সংকট: অব্যবস্থাপনায় পর্যটক ভোগান্তির আশঙ্কা..
কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম ঘিরে আবাসন সংকট: অব্যবস্থাপনায় পর্যটক ভোগান্তির আশঙ্কা..
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলে আবাসন সংকট ও চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সমাধানে আগাম ও কার্যকর পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।..

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতি বছরই পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ঢল নামে, তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পরিকল্পনাহীনতার কারণে এবারও পর্যটকদের আবাসন সংকট ও চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে হোটেল-মোটেলে কক্ষের চাহিদা তুঙ্গে উঠলেও জোগান সীমিত থাকায় সাধারণ পর্যটকরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। ছুটির দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা কক্সবাজারে পৌঁছানোর পরপরই যখন আবাসন সংকটের মুখোমুখি হন, তখন তাদের পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন, কারণ শেষ মুহূর্তে হোটেল না পেয়ে তাদের অনিরাপদ বা অস্থায়ী স্থানে রাত কাটানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পর্যটন খাতের এই অব্যবস্থাপনা কেবল পর্যটকদের জন্য বিড়ম্বনাই নয়, বরং দেশের পর্যটনশিল্পের সামগ্রিক ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ভুক্তভোগী পর্যটকদের অভিযোগ, কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর হোটেলের কক্ষ পাওয়া তো দূরের কথা, অনেক সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করা হয়, যা পর্যটন ব্যবসার নৈতিকতার পরিপন্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পর্যটক জানান, হাজার হাজার টাকা খরচ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর মাথার ওপর ছাদ না থাকাটা চরম হতাশাজনক। আবাসন সংকটের কারণে অনেক সময় পর্যটকদের অপরিচিত বা অস্বাস্থ্যকর স্থানে অবস্থান করতে বাধ্য হতে হয়, যা তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে বিধিনিষেধ ও ধারণক্ষমতা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পর্যটকদের মূল চাপ কক্সবাজার শহরেই বাড়ছে, ফলে হোটেলগুলোতে কক্ষের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পর্যটন খাতের এই অস্থিতিশীলতা রোধে হোটেল মালিকদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ বুকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এদিকে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, হোটেলগুলোতে কতগুলো কক্ষ খালি আছে এবং পর্যটকদের প্রকৃত চাহিদা কত, তার কোনো সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং হোটেল মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতার কারণে পর্যটন মৌসুমে প্রতি বছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যটকদের সম্ভাব্য সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে আগাম পরিকল্পনা প্রণয়ন, হোটেলগুলোর ভাড়া তদারকি এবং অনুমোদিত আবাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন সম্ভব। এছাড়া পর্যটকদের জরুরি আশ্রয়ের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা এবং শহরের নিরাপত্তা জোরদার করা প্রশাসনের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সুখকর করতে শুধু সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে সেবার মান ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা ভ্রমণের আগে আবাসন বুকিং, নির্ধারিত ভাড়া ও নিয়মকানুন যাচাই করে নেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটনশিল্পকে টেকসই ও পর্যটকবান্ধব করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে কঠোর তদারকি ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, কক্সবাজারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পর্যটকদের এই আবাসন সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার তিক্ত অভিজ্ঞতা পর্যটন খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়েই থাকবে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator