মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েই যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েই যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থার..

M.A Hossain avatar   
M.A Hossain
মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েই যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থার..
মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েই যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থার..
ছবি: সংগৃহীত
****

নিরাপদ সমাজ গঠন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন লাইফ সেইফার সংস্থার নেতৃবৃন্দ। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বারইয়ারহাটের শাহ আমানত ভিআইপি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় এসব উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক নাছরিন ফৌজিয়ার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মিরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনা। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও মাটিরাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সদস্য হাফেজ আবু হানিফ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বাল্যবিয়ে, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই লাইফ সেইফারের পথচলা। মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেবা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্য পূরণে সংগঠনের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, একটি উন্নত সমাজের ভিত্তি হলো মানবিকতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব। সামাজিক সমস্যা সমাধানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। মানুষের কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো যেন ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য পরিকল্পিত কর্মসূচি ও ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রয়োজন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা সদস্য জোবায়দা শিরিন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, সদস্য দিদারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, মফিজুল ইসলাম, এনায়েত উল্ল্যাহ এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের মিরসরাই প্রতিনিধি এম আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা।

সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের সদস্যরা। পাশাপাশি মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Walang nakitang komento


News Card Generator