আফজল খান শিমুল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে শাহীন বেপারি (আনুমানিক বয়স ৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের উত্তরে কুমারপাড়া রেলক্রসিং-সংলগ্ন রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তার করুণ মৃত্যু হয়। নিহত শাহীন মিয়া আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের মৃত ফয়েজ বেপারির ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে শাহীন ট্রেনটির দিকে দৌড়ে গিয়ে নিচে ঝাঁপ দেন এবং রেললাইনে শুয়ে পড়েন। ট্রেনের চালক হর্ন বাজিয়ে তাঁকে সতর্ক করলেও তিনি সরে যাননি। এতে শরীর দ্বি-খন্ডিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত কেবিন স্টেশন মাস্টার মুনতাসির মামুন মানিক লিখিত বার্তার মাধ্যমে রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন আসার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
শাহীন কেন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুকে বেছে নিলেন, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। হয়তো তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, হতাশায় ভুগছিলেন কিংবা জীবনের কোনো বড় কষ্ট তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক প্রতিবেশী এ প্রতিবেদককে বলেন, তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনে শারিরীক ও মানসিক অশান্তিতে তিনি হতাশায় ভূগছিলেন। এ কারণে হয়তবা তিনি আত্মহত্যার মতো জঘন্য ও নির্মম পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছেন ।