ইছামতীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব, মিলনমেলা না হওয়ায় হতাশ দুই বাংলার মানুষ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইছামতীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব, মিলনমেলা না হওয়ায় হতাশ দুই বাংলার মানুষ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
ইছামতীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব, মিলনমেলা না হওয়ায় হতাশ দুই বাংলার মানুষ..
ইছামতীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব, মিলনমেলা না হওয়ায় হতাশ দুই বাংলার মানুষ..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ইছামতি নদীতে নিজ নিজ সীমানায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: 

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ইছামতি নদীতে নিজ নিজ সীমানায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে বিজয়া দশমীতে দুই বাংলার মানুষের ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন উৎসব দেখতে আসা হাজারো মানুষ। নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামলেও কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে এবারও দুই দেশের মানুষের অবাধ মেলামেশা ও নৌযানে মিলিত হওয়ার সুযোগ হয়নি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকাল থেকেই বাংলাদেশের সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টাকি পৌরসভা এলাকার ইছামতি নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। দুই দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। দিনভর নদীর দুই পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও অধরা থেকে যায় দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলার চিরচেনা আনন্দ।

স্থানীয় কর্ণ বিশ্বাস, পারুল বিশ্বাস ও সুভাষ ঘোষসহ অনেকে জানান, দেশ বিভাগের আগে থেকেই ইছামতি নদীর দুই তীরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলার আয়োজন হয়ে আসছে। দেবহাটার টাউনশ্রীপুর থেকে ভারতের টাকি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ উৎসবে দুই বাংলার মানুষের ব্যাপক সমাগম হতো। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় ও ভাবের আদান-প্রদানের পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ে বসত নানা ধরনের দোকানপাট। উৎসবটি পরিণত হয়েছিল দুই বাংলার মানুষের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীকে।

তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের সেতুবন্ধ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে আগের মতো মিলনমেলা হচ্ছে না। ফলে নদীর দুই পাড়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে উৎসব উপভোগ করলেও একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের টাউনশ্রীপুর ও ভারতের টাকির নদীতীরে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়ে। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ, টাকি ও হিঙ্গলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ইছামতি নদীতে আনা হয়। নদীর শূন্যরেখায় ডিঙি নৌকায় লাল পতাকা উড়িয়ে দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করতে দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের।

ভারতের অংশে প্রতিমা বিসর্জন ও নৌযানে মানুষের উপস্থিতি দেখা গেলেও বাংলাদেশের পাড় থেকে কাউকে নৌকা নিয়ে নদীতে নামতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই দুই দেশের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য উপভোগ করেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সন্ধ্যার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

তবে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও দর্শনার্থীদের অনেকের মনেই রয়ে যায় অপূর্ণতার অনুভূতি। ইছামতীর বুকে দুই বাংলার মানুষের মিলিত হওয়ার সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য দেখতে এসে অনেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রেখেই একদিন আবারও ফিরে আসবে ঐতিহ্যবাহী এ মিলনমেলা, যেখানে নদীর দুই পাড়ের মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন।

এ সময় বাংলাদেশের সীমান্তপাড়ে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

Walang nakitang komento


News Card Generator