মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে ছুটল ইমাদ, দুইজনের মৃত্যু | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে ছুটল ইমাদ, দুইজনের মৃত্যু

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে ছুটল ইমাদ, দুইজনের মৃত্যু
মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে ছুটল ইমাদ, দুইজনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-চুকনগর সড়কের ১৮ মাইল এলাকায় ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরা-চুকনগর সড়কের ১৮ মাইল এলাকায় ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন মাছ ব্যবসায়ী। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া আমতলা এলাকায় আটক করে পুলিশ। তবে বাসটির চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারী গাজীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী রাফিউর রহমান রউফ (৪৩) এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (২৫)।

নিহত রাফিউর রহমানের ভাই আব্দুল হামিদ জানান, তাঁর ভাইয়ের চুকনগর বাজারেও মাছের আড়ত রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাফিউর রহমান ইউনুস আলীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হিরো মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় যান। সেখানে কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে তাঁরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইল এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস তাঁদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে দুজন সড়কে ছিটকে পড়লে বাসটি তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনেরা।

বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫২৫৯। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের খর্ণিয়া ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাটি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি নিয়ে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইমাদ পরিবহনের যাত্রী ও পুরাতন সাতক্ষীরার বাসিন্দা মালেকা পারভিন জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তিনি ঢাকার গুলিস্তান থেকে সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনে ওঠেন। একই সময়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসও ছেড়ে যায়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইমাদ পরিবহনের চালক শুরু থেকেই বেপরোয়াভাবে বাস চালাচ্ছিলেন। দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে চুকনগর এলাকায় বাসটি টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসকে ওভারটেক করে। এরপর রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইল এলাকায় তালা থেকে চুকনগরগামী একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বাসটি দ্রুতগতিতে চলে যায়।

পরে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া আমতলা এলাকায় বাসটি আটক করে পুলিশ। এ সময় চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যান বলে জানান ওই যাত্রী। পরে মোটরসাইকেলে থাকা দুজনের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তাঁরা।

খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুন্সি পারভেজ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে তিনি ঘটনাকালীন দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক খালিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

উপপরিদর্শক খালিদ হোসেন জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে নিহত রাফিউর রহমানের ভাই আব্দুল হামিদের কাছে মরদেহ দুটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আব্দুল হামিদ ডুমুরিয়া থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। দুর্ঘটনায় জড়িত ইমাদ পরিবহনের বাসটি সাতক্ষীরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী হাইওয়ে পুলিশকে মামলার বাদীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসার কথা। তবে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা করতে কেউ থানায় আসেননি।

দুইজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, দায়ীদের শনাক্ত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator