বিসিএসে সুপারিশের পরও নিয়োগ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ ১০৫ প্রার্থী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিসিএসে সুপারিশের পরও নিয়োগ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ ১০৫ প্রার্থী..

en_a866429 avatar   
en_a866429
বিসিএসে সুপারিশের পরও নিয়োগ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ ১০৫ প্রার্থী..
বিসিএসে সুপারিশের পরও নিয়োগ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ ১০৫ প্রার্থী..
ছবি: সংগৃহীত
****

বিসিএসে সুপারিশের পরও নিয়োগ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ ১০৫ প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পাওয়ার পরও চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বিশেষ করে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ৫৬ জন প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের বাদ দেওয়া হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা পুনর্বিবেচনার দাবিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন তাঁরা। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সুপারিশ পেয়েও চূড়ান্ত নিয়োগে নেই নাম

৪৫তম বিসিএসে পিএসসি মোট ১ হাজার ৮০৭ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। তবে গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১ হাজার ৭০২ জনকে। ফলে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়নি।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯ জন শারীরিক পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে অংশ নেননি। বাকি ৫৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পরও চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি শুভ্র দেবনাথ। ৪৫তম বিসিএসেও স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, একাধিকবার সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি। ৪৬তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারেও সুপারিশ পাওয়ায় সেখানকার নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

বিসিএসের আশায় বিদেশে পড়তে যাওয়া হয়নি

বাদ পড়া প্রার্থীদের একজন পার্থ সরকার। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আশায় বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।

চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় নিজের নাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন পার্থ। তাঁর ভাষ্য, বিদেশে পড়ার সুযোগ ছেড়ে দেওয়ার পর এখন চাকরিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবার ও পরিচিতজনদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।

বাদ পড়ার কারণ জানতে চান প্রার্থীরা

স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে শুভ্র দেবনাথ, কুশল দাস, বুদ্ধদেব কর, সৌরভ মণি সরকার, সুব্রত তালুকদার, পার্থ সরকার, শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নন্দী, চন্দন বিশ্বাস ও চিন্ময় বর্মণের নাম উল্লেখযোগ্য।

পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া চিন্ময় বর্মণ জানিয়েছেন, মেধাক্রমে তাঁর অবস্থান ছিল ৭৬তম। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে বিসিএসে সফল হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকায় তাঁর পরিবার গভীর হতাশার মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া এইচ এম ফেরদাউস খানের বক্তব্য, নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার পর সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। পরিচিতজনদের সন্দেহ ও নানা প্রশ্নের কারণে মানসিক চাপও বাড়ছে।

মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মনিরুজ্জামানও জানিয়েছেন, কোনো অন্যায় না করেও নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তাঁর পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

পুনর্বিবেচনার দাবিতে আবেদন

বাদ পড়া ৫৬ জন প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানান তাঁরা।

প্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন, কারও সঙ্গে অন্যায় হয়ে থাকলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এরপর তাঁরা জনপ্রশাসনসচিব বরাবর পৃথক আবেদন জমা দেন।

গত সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবারও কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। দাবি পূরণ না হলে বুধবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁদের একজন মো. মেহেদী হাসান।

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি

গত ১ অক্টোবর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হবে না।

এদিকে বাদ পড়া প্রার্থীদের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো হোক। আর কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ না থাকলে তাঁদের নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।

কৃষি ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই এবং কোনো ফৌজদারি অপরাধেও তিনি জড়িত নন। তাঁর দাবি, অপরাধের প্রমাণ থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু কারণ না জানিয়ে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ না পাওয়া এসব প্রার্থীর এখন একটাই দাবি—কেন তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator