মোঃ ইমরান মুন্সি
জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে ঘিরে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে স্থানীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তার সাথে এক বিতর্কিত ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদী নেতার উপস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), 'জাতীয় নারী শক্তি'র সদস্য সচিব এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু সম্প্রতি কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় তার পাশে দেখা যায় জয়নাল আবেদীন ডাকুয়া নামের এক বহুমুখী দলবদলু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নাল আবেদীন ডাকুয়া অতীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং কাঁঠালিয়ায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ভূমিকা পালন করতেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং খুলনা মহানগর ঘাট শ্রমিক লীগের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। শুধু তা-ই নয়, বিএনপির অন্য এক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার সাথেও তাকে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে গঠিত নতুন ধারার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রী ও এমপির পাশে এই সুবিধাবাদী নেতার অবাধ বিচরণ স্থানীয় রাজনীতিতে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নাগরিক বলেন:
"যে ব্যক্তি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের ঘাট শ্রমিক লীগের সভাপতি হলেন, পরে আবার বিএনপি নেতার সাথে দেখা গেল, তাকেই এখন নতুন ধারার দল এনসিপির এমপির সাথে দেখা যাচ্ছে। এভাবে সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন করা হলে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন রাজনীতিতে পরিবর্তন আর কোথায় থাকল?"
এর পাশাপাশি, পূর্বে ঈদের সময় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত অনুদান ও বরাদ্দের টাকা কোথায় বা কাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে—সে বিষয়েও স্থানীয় জনগণের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য না থাকায় সাধারণ মানুষের মনে অসন্তোষ আরও পুঞ্জীভূত হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি "ব্যস্ত আছেন" জানিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ধারার রাজনীতিতে আদর্শিক সততা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একজন সংসদ সদস্যের সাথে এমন সুবিধাবাদী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি দলের মূল নীতি ও ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।