শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে জিম্মি করে চিকিৎসার কথা বলে মুঠোফোনের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে তাঁর মরদেহ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ সদর এলাকার ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল’-এর দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে হোটেলের মালিক আতাউর রহমান ও ব্যবস্থাপক মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাবিড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি, পরিবারের অভিযোগ
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে গাজীপুরের বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা এলাকায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পরে তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে পরিবারকে জানান।
পরিবারের অভিযোগ, সোমবার তাঁর মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর কাছে ফোন করে চিকিৎসার কথা বলে দুই দফায় ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বজনেরা তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখানো একটি ছবি পাঠানো হয়। টাকা না দিলে তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে অবস্থান শনাক্ত
পরবর্তী সময়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশের সহায়তায় মুঠোফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভেদরগঞ্জে আবুল বাশারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশ হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শিক্ষকের ভাগিনা কবির হোসেন এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তে পুলিশ
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একটি ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও জানান, নিহত শিক্ষকের মুঠোফোন থেকে কারা টাকা দাবি করেছিল এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের পলাতক হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।