তালায় ক্ষিতিশ হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় স্বজনেরা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তালায় ক্ষিতিশ হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় স্বজনেরা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
তালায় ক্ষিতিশ হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় স্বজনেরা..
তালায় ক্ষিতিশ হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় স্বজনেরা..
ছবি: সংগৃহীত
মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চণ্ডিপুর ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা পূর্বপাড়া এলাকার মধ্যবর্তী ঘের ও জনপদকে কেন্দ্র করে..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: 

মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চণ্ডিপুর ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা পূর্বপাড়া এলাকার মধ্যবর্তী ঘের ও জনপদকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নিহতের পরিবারের। মামলা তুলে না নিলে ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাবে না এবং দেশছাড়া করা হবে বলেও আসামিপক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে তালা উপজেলার জেয়ালা পূর্বপাড়ায় গিয়ে বাম জাসদ নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, প্রকাশ সরকার ও সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন নিহত ক্ষিতিশ মণ্ডলের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল, দেবর সুকুমার মণ্ডল ও চাচাতো দেবর প্রকাশ মণ্ডল।

স্বজনদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্ষিতিশ মণ্ডলকে তাঁর নিজস্ব ঘেরের বাসা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে শেখ হাবিবুর রহমান। পার্শ্ববর্তী কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে মাছ ধরে নিজের ঘেরে দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিতিশকে চোর সাজানোর উদ্দেশ্যে ওই ঘেরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

তাঁদের ভাষ্য, জীবন বাঁচাতে পানিতে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ইব্রাহীম হোসেন ও সমর ঘোষ নৌকার বৈঠা দিয়ে ক্ষিতিশের মাথায় আঘাত করেন। এরপর তাঁর ওপর দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মানে নিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে ক্ষিতিশকে বেঁধে লোহার রড, হাতুড়ি ও ইট দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর দুই পা ও বুকের পাঁজর ভেঙে যায়। এমনকি তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

এ ঘটনায় জেয়ালার গফ্ফার শেখ, নলতা নিকারীপাড়ার সাত্তার, জেয়ালার বিশ্বনাথ ঘোষ ও শিমুল ঘোষ, আটারুই এলাকার মজিদ এবং ঘেরমালিক স্বদেশ ঘোষ ও ক্ষিতিশ ঘোষের বিরুদ্ধে নির্যাতনে সংশ্লিষ্টতা ও পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ক্ষিতিশকে ছেড়ে দেওয়া অথবা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা বললেও তাঁদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ক্ষিতিশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রী সুলেখা মণ্ডলের কাছ থেকে জোরপূর্বক কয়েকটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ক্ষিতিশকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজন প্রকাশ মণ্ডল ও স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল জানান, ঘটনার রাতেই ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের অভিযোগ, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ হাবিবুর রহমান, রবিউল, সমর ঘোষ ও ইব্রাহীমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন।

সুলেখা ও প্রকাশ মণ্ডলের দাবি, মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁদের ছেলে উৎপল মণ্ডলকে খুঁজে পাওয়া যাবে না এবং তাঁদের দেশছাড়া করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।

তাঁরা র‍্যাব (এসআরবি), সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বাসদের সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার বলেন, রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ক্ষিতিশের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা সম্ভাব্য সব জায়গায় কথা বলবেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ঘটনার চার দিন পরও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়া এবং পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকির অভিযোগ ওঠায় দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator