সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান ইশরাক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি স্পষ্ট করতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন।
ইশরাক বলেন, তাঁর কারণে যেন সরকারের কার্যক্রম ম্লান না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সোমবার থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। ঢাকা-৬ আসন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূলের পাশাপাশি জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ তারিখ শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থেকেও মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যেতে চান বলে জানান তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইশরাক দাবি করেন, তিনি কোনো ভুল করেননি। তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক, তা তিনি চান না।
সংবাদ সম্মেলন কক্ষে নেতাকর্মীদের ভিড়
ইশরাক হোসেনের সংবাদ সম্মেলন চলাকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়কে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী কক্ষে প্রবেশ করেন।
পরিস্থিতি নজরে আসার পর ইশরাক মাইকে নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাইরে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে অনেক নেতাকর্মী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভুঁইয়াসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।