চাঁদপুরে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ মা-ছেলের, পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সমাজকর্মী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ মা-ছেলের, পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সমাজকর্মী..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ মা-ছেলের, পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সমাজকর্মী..
চাঁদপুরে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ মা-ছেলের, পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সমাজকর্মী..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এক মা ও তাঁর সন্তান, যাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাসুদ ব্যাপারী নামক এক ব্যক্তি।..

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সুমি সরকার এবং তাঁর ছেলে রবিন সরকার স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পর মা সুমি সরকারের নতুন নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলে রবিন সরকারের নাম রাখা হয়েছে আব্দুল্লাহ। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সংকটের কারণে ঢাকার ডেমরার স্থায়ী আবাস ছেড়ে বর্তমানে তাঁরা চাঁদপুরে অবস্থান করছেন। মূলত ইসলামের আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি গভীর অনুরাগের জায়গা থেকেই এই মা ও ছেলে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে তাঁরা আদালতে হলফনামার মাধ্যমে এই পরিবর্তন সম্পন্ন করেছেন, যা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং সচেতনভাবে করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী মা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তাঁরা নতুন পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সংগ্রাম শুরু করেছেন এবং এই নতুন পথে পা বাড়িয়ে তাঁরা সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকায় নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের সামাজিক ও আর্থিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেখানে সঠিক সহায়তা তাদের জীবনকে স্থিতিশীল করতে পারে।

নতুন পরিচয়ে জীবন গুছিয়ে নিতে গিয়ে মা-ছেলে বর্তমানে তীব্র আবাসন ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ছেলের সুন্নতে খাতনার সময় তাঁদের অসহায়ত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। খায়রুন নাহার জানান, স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলাটা তাঁদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, আমরা কেবল শান্তির খোঁজে এবং বিশ্বাসের জায়গা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু এখন আমাদের সামনে টিকে থাকার লড়াইটাই সবচেয়ে বড়। তাঁদের এই অসহায়ত্বের সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সমাজকর্মী মাসুদ ব্যাপারী। তিনি আব্দুল্লাহকে ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান প্রদর্শন করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাসুদ ব্যাপারী তাঁদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং তাঁদের নতুন জীবনযাত্রাকে সহজতর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের এই লড়াই কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি সামাজিক সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে মাসুদ ব্যাপারীর মতো ব্যক্তিদের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সমাজকর্মী মাসুদ ব্যাপারী জানিয়েছেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাদের নিয়মিত সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। কোনো ধরনের ধর্মীয় বা সামাজিক বিভেদ তৈরি না করে একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি এই সহায়তার বিষয়টি দেখছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন মানুষ তার নিজস্ব বিশ্বাসের ভিত্তিতে জীবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে সমাজ হিসেবে সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই ধরনের ঘটনায় কোনো বিশৃঙ্খলা বা সামাজিক অস্থিরতা যেন তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। মাসুদ ব্যাপারীর এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হলেও, মা-ছেলের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান ও নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। স্থানীয় সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এই মা-ছেলের নতুন পথচলা অনেক বেশি মসৃণ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

ধর্ম পরিবর্তনের পর নতুন পরিচয়ে জীবন শুরু করা মা-ছেলের জন্য এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করা। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে তাদের এই নতুন জীবনযাত্রা কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় নয়, বরং এটি একটি মানবিক সংকট মোকাবিলা করার প্রক্রিয়া। সমাজের মানুষ যদি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়, তবেই তারা সমাজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে। মাসুদ ব্যাপারীর মতো ব্যক্তিদের এই মানবিক সহায়তার মডেলটি যদি অন্যান্য বিত্তবানরা অনুসরণ করেন, তবে প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা এই মা-ছেলের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পরিশেষে, তাদের এই নতুন পথচলা যেন কোনোভাবেই অবহেলা বা সামাজিক বঞ্চনার শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা এখন সময়ের দাবি।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator