চাঁদপুরে দোকান বরাদ্দের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মোতাওয়াল্লী ও বাদীর ঠাঁই হলো কারাগারে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরে দোকান বরাদ্দের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মোতাওয়াল্লী ও বাদীর ঠাঁই হলো কারাগারে..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে দোকান বরাদ্দের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মোতাওয়াল্লী ও বাদীর ঠাঁই হলো কারাগারে..
চাঁদপুরে দোকান বরাদ্দের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মোতাওয়াল্লী ও বাদীর ঠাঁই হলো কারাগারে..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের দোকান বরাদ্দের নামে ৪২ লাখ টাকা প্রতারণার মামলায় মোতাওয়াল্লী ও তাঁর বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত, একই সঙ্গে আদালত অবমাননার দায়ে বাদীকেও কারান্তরীণ করার নির্দেশ দেওয়া হ..

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল এবং তাঁর বাবা সাবেক মোতাওয়াল্লী আলমগীর কবির পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে ওঠা ৪২ লাখ টাকা প্রতারণার মামলায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আদালত। রোববার বিকেলে চাঁদপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান সিআর ৬৩৫/২০২৬ নম্বর মামলার শুনানি শেষে এই যুগান্তকারী আদেশ প্রদান করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে দোকান বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাদীর কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও দোকান বুঝিয়ে দেওয়া বা অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হন অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. কবির হোসেন লিটন দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আসামিপক্ষের জামিনের আবেদন নাকচ করে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে চাঁদপুর বিচারিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় আদালত কক্ষে অস্বাভাবিক আচরণের দায়ে বাদীকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ায় মামলার আইনি প্রেক্ষাপট নতুন মোড় নিয়েছে।

মামলার বাদী মো. কবির হোসেন লিটনের অভিযোগ, মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে দোকান পাওয়ার আশায় তিনি অভিযুক্তদের হাতে ৪২ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্তরা না দোকান বুঝিয়ে দিয়েছেন, না টাকা ফেরত দিয়েছেন, যা স্পষ্টত বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রতারণার শামিল। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ধর্মের নামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের মোতাওয়াল্লী হয়ে এমন জালিয়াতি জনমনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তবে মামলার রায় ঘোষণার পরপরই বাদী আদালত কক্ষে হাততালি দিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, যা বিচারিক শিষ্টাচার বহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হয়। বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে একে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বাদী লিটনকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনাটি বিচারিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব আদালতে জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা সরাসরি খারিজ করে দেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা মামলার অভিযোগের সত্যতা ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আপাতত আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ বহাল রেখেছেন। হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মতো একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ বা ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে এর অপব্যবহার কীভাবে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করে, এই ঘটনাটি তারই একটি নগ্ন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মামলার রায় ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এখন স্থানীয় এলাকাবাসীর নজর রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে দোকান বরাদ্দের মতো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করতে পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিচার বিভাগীয় এই কঠোর পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট মহলে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, আইনি প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা এবং আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাটি স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের আর্থিক লেনদেনে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হতে উদ্বুদ্ধ করবে।

No comments found


News Card Generator